জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের অনুসন্ধানে ভিনদেশি বা বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের এক বড় চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করে খোলাবাজারে কাপড় বিক্রির দায়ে মো. লিটন আলীর মালিকানাধীন রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
বন্ডের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি:
প্রতিষ্ঠানটি ৪১টি ইউপির (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) আওতায় বন্ড সুবিধায় মোট ২,৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। এর মধ্যে ২,২৩৭ টন কাপড় রাজধানীর ইসলামপুরে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
আমদানি ও রপ্তানির তথ্যে গরমিল:
বন্ড সুবিধায় আনা এ ধরনের কাপড়ের ক্ষেত্রে ভুয়া রপ্তানি দেখানো হয়েছে। সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব রপ্তানির সঙ্গে মিললেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি ধরা পড়েছে।
৪১টি ইউডির মধ্যে ৩১টিতেই কোনো রপ্তানি হয়নি। এর মধ্যে ৩০টিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটাই অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছে, আর আংশিক অপসারণ করা হয়েছে ১০টি এন্ট্রিতে। এসব এন্ট্রিতে আমদানির প্রায় ৫৩ শতাংশ কাপড়ের হিসাব মেলেনি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের শুরুর মধ্যেই ৪১টি ইউডিতে আনা মোট কাপড়ের প্রায় ৮২ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে।
গত এক মাসে এ ধরনের কাপড় দিয়ে কোনো পোশাক উৎপাদন বা রপ্তানি হয়নি। অথচ ইউপির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এসব ইউডিতে প্রায় ৩৯০ টন কাপড় আমদানি হয়েছিল।
শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ:
গোয়েন্দা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বন্ডের নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে অপসারিত এসব কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বন্ডের অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে এ ধরনের অসাধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লিটন আলীর বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























