ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি ঢাবিতে ৯ ককটেল বিস্ফোরণ: আটক তিনজনের পরিচয় জানা গেল দুর্নীতিতে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতিগুলো: রাষ্ট্রপতি সরকারি ওষুধ কেনা-বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, রাজস্থলী হাসপাতালে দুদকের অভিযান এলজিইডির উদ্যোগে পঞ্চগড়ে তিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন আ.লীগের ফিরে আসা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী দীপকের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা নিয়ে ক্ষোভ, ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফ্লাইওভার থেকে পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা

উত্তরায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে গণপিটুনি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর উন্নয়ন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উত্তরা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘুষ বাণিজ্যের হাতেনাতে ধরা পড়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে মারধর করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের মোড়, পাকার মাথা এলাকায় এই অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা উত্তরা জসিমউদ্দিন সড়কের পাকার মাথা এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে নামেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য থাকার কথা থাকলেও এদিনের অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় হকার ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন যে, ম্যাজিস্ট্রেট ও তার সহযোগীরা ফুটপাত উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছেন।

হকারের অভিযোগ: এক ভুক্তভোগী হকার অভিযোগ করে বলেন, ”অভিযানের নামে ওরা আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এর আগে আমার দোকানের ক্যাশ টাকা ও সিগারেটসহ প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশনে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হলেও কোনো ধরনের রশিদ বা স্লিপ দেওয়া হয়নি।”

  • ঘুষের টাকা উদ্ধার: ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা অভিযোগ করেন যে, অভিযানকালে ম্যাজিস্ট্রেটের এক সহযোগী এক দোকানদারের কাছ থেকে কম জরিমানা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসের বিনিময়ে নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ নেন। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা তল্লাশি চালিয়ে সেই ঘুষের টাকা উদ্ধার করেন।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীরা ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ফেলেন এবং মারধর করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত উত্তরা পশ্চিম থানা এবং বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং অবরুদ্ধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ লেনদেনের সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন: “আমি এক দোকানদারকে নিয়ম অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার জরিমানার রায় দিয়েছি। রায় ঘোষণার পর ওই দোকানদার আমাকে জানান যে, এই মুহূর্তে তার কাছে নগদ টাকা নেই এবং তিনি একটু সময় প্রার্থনা করেন। আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে টাকা পরিশোধের জন্য সময় দিয়েছিলাম। এর বাইরে ঘুষ নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

নগর প্রশাসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালনকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ আদায় ও জনসাধারণের হাতে মার খাওয়ার এই ঘটনা নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ডিএনসিসি ও স্থানীয় প্রশাসন কী ধরনের দাপ্তরিক বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি

উত্তরায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে গণপিটুনি

আপডেট সময় ১১:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর উন্নয়ন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উত্তরা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘুষ বাণিজ্যের হাতেনাতে ধরা পড়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে মারধর করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের মোড়, পাকার মাথা এলাকায় এই অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা উত্তরা জসিমউদ্দিন সড়কের পাকার মাথা এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে নামেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য থাকার কথা থাকলেও এদিনের অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় হকার ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন যে, ম্যাজিস্ট্রেট ও তার সহযোগীরা ফুটপাত উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছেন।

হকারের অভিযোগ: এক ভুক্তভোগী হকার অভিযোগ করে বলেন, ”অভিযানের নামে ওরা আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এর আগে আমার দোকানের ক্যাশ টাকা ও সিগারেটসহ প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশনে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হলেও কোনো ধরনের রশিদ বা স্লিপ দেওয়া হয়নি।”

  • ঘুষের টাকা উদ্ধার: ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা অভিযোগ করেন যে, অভিযানকালে ম্যাজিস্ট্রেটের এক সহযোগী এক দোকানদারের কাছ থেকে কম জরিমানা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসের বিনিময়ে নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ নেন। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা তল্লাশি চালিয়ে সেই ঘুষের টাকা উদ্ধার করেন।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীরা ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ফেলেন এবং মারধর করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত উত্তরা পশ্চিম থানা এবং বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং অবরুদ্ধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ লেনদেনের সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন: “আমি এক দোকানদারকে নিয়ম অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার জরিমানার রায় দিয়েছি। রায় ঘোষণার পর ওই দোকানদার আমাকে জানান যে, এই মুহূর্তে তার কাছে নগদ টাকা নেই এবং তিনি একটু সময় প্রার্থনা করেন। আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে টাকা পরিশোধের জন্য সময় দিয়েছিলাম। এর বাইরে ঘুষ নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

নগর প্রশাসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালনকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ আদায় ও জনসাধারণের হাতে মার খাওয়ার এই ঘটনা নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ডিএনসিসি ও স্থানীয় প্রশাসন কী ধরনের দাপ্তরিক বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।