পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রমিকদের দাবি পূরণ হওয়ায় তাঁদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ আহ্বান জানান।
গঠিত এই বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি ছাড়াও একজন নিরপেক্ষ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্প খাতের জন্য পৃথকভাবে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের দুজন প্রতিনিধিকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর (সংশোধিত ২০২৬) ১৩৮ ধারার ২ ও ৪ উপধারার বিধান অনুযায়ী সরকার মজুরি বোর্ডের স্থায়ী সদস্য নিয়োগ দিয়েছে।
বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া গার্মেন্টস শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এসব সদস্যের পাশাপাশি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শেখ আশফাকুর রহমান। এই সদস্যদের নিয়ে গঠিত স্বাধীন মজুরি বোর্ড দ্রুত আলোচনা করে শ্রমিকদের সন্তোষজনক মজুরি নির্ধারণে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা, যা আজ পূরণ হয়েছে। তাঁদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দেবেন। পাশাপাশি বোর্ডের সব সদস্যকে দ্রুত আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
আন্দোলনের নেপথ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। গতকাল বিভিন্ন কারখানায় বহিরাগতরা ঢিল ছুড়েছে। আজও শ্রমিকদের পরিকল্পিতভাবে ছুটি দিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি স্পষ্ট। আন্দোলনের আড়ালে একটি নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক সেজে অংশ নিয়েছেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। আন্দোলনের পেছনে থেকে আরেকটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তবে জনগণ ও গণমাধ্যম সজাগ থাকলে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের ঘটনা পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। জনগণ ও গণমাধ্যম সজাগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























