ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুই কর্মকর্তার ২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক ছাত্রদলের পরিচয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ, বেপরোয়া জহির গং সিন্ডিকেট স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে ইতু হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি গ্রেপ্তার তাড়াইলে কলেরা টিকার দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসি সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ১,৩২৪ রোগী; মেঝেতেও চিকিৎসা

পীরগঞ্জে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসাসেবা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককেই মেঝে ও বারান্দায় বাড়ি থেকে আনা কাঁথা, কম্বল ও বালিশ দিয়ে জায়গা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পীরগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার এ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা সদরস্থ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শুধু পীরগঞ্জের বাসিন্দারাই নন, পাশের পলাশবাড়ী, মিঠাপুকুর ও সাদুল্লাপুর উপজেলার লোকজনও প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে এ হাসপাতালে আসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৭ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ৪৫ জন, শিশু (ছেলে) ওয়ার্ডে ১১ জন এবং শিশু (মেয়ে) ওয়ার্ডে ৯ জনসহ মোট ১১২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর, ডায়রিয়া ও অ্যালার্জিজনিত চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যা ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের বেগ পেতে হচ্ছে।

উপজেলার চতরা ইউনিয়নে একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, খালাশপীর হাটে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল এবং মিঠিপুর ইউনিয়নে একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের অধিকাংশই পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ফলে উপজেলা সদরস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে শয্যা সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বিসিএস ক্যাডারসহ মোট ১৬ জন চিকিৎসক ও ৬ জন কনসালটেন্ট কর্মরত রয়েছেন। তবে রোগীর তুলনায় এই জনবল অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে চিকিৎসক ও সেবিকাদের অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও ৫০ শয্যার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।

হাসপাতালে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একটি ডায়নামো পাওয়া গেলেও তেলের বরাদ্দ ও অপারেটর না থাকায় সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল, শয্যা সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে রোগীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত পীরগঞ্জ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত জনবল ও বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুই কর্মকর্তার ২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

পীরগঞ্জে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসাসেবা

আপডেট সময় ০৪:২২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককেই মেঝে ও বারান্দায় বাড়ি থেকে আনা কাঁথা, কম্বল ও বালিশ দিয়ে জায়গা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পীরগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার এ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা সদরস্থ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শুধু পীরগঞ্জের বাসিন্দারাই নন, পাশের পলাশবাড়ী, মিঠাপুকুর ও সাদুল্লাপুর উপজেলার লোকজনও প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে এ হাসপাতালে আসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৭ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ৪৫ জন, শিশু (ছেলে) ওয়ার্ডে ১১ জন এবং শিশু (মেয়ে) ওয়ার্ডে ৯ জনসহ মোট ১১২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর, ডায়রিয়া ও অ্যালার্জিজনিত চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যা ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের বেগ পেতে হচ্ছে।

উপজেলার চতরা ইউনিয়নে একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, খালাশপীর হাটে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল এবং মিঠিপুর ইউনিয়নে একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের অধিকাংশই পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ফলে উপজেলা সদরস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে শয্যা সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বিসিএস ক্যাডারসহ মোট ১৬ জন চিকিৎসক ও ৬ জন কনসালটেন্ট কর্মরত রয়েছেন। তবে রোগীর তুলনায় এই জনবল অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে চিকিৎসক ও সেবিকাদের অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও ৫০ শয্যার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।

হাসপাতালে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একটি ডায়নামো পাওয়া গেলেও তেলের বরাদ্দ ও অপারেটর না থাকায় সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল, শয্যা সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে রোগীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত পীরগঞ্জ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত জনবল ও বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।