ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক ছাত্রদলের পরিচয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ, বেপরোয়া জহির গং সিন্ডিকেট স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে ইতু হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি গ্রেপ্তার তাড়াইলে কলেরা টিকার দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসি সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ১,৩২৪ রোগী; মেঝেতেও চিকিৎসা কমলনগরে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, টিনের চাল কেটে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশন্স লিমিটেডের কাছে আইএফআইসি ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬৭ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে এই ঋণ ব্যাংকের খাতায় ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এখন সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা মওকুফ চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।

এর বিপরীতে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধ করে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে সমাধান এখনও অনিশ্চিত। একদিকে সমঝোতার মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তি করতে চাইছে প্লামি ফ্যাশন্স। অন্যদিকে ঋণ আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির করা মামলায় প্রায় ২৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সমঝোতা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্লামি ফ্যাশন্সের কারখানা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুরে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকের মোট পাওনা ২৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে মামলা চলাকালীন সুদ, সাসপেন্সে থাকা সুদ এবং আয় হিসেবে স্থানান্তর করা সুদ মিলিয়ে প্রায় ১৩২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মওকুফ চাওয়া হয়েছে।

বাকি ১৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানা বিক্রির মাধ্যমে ঋণের মূল টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।

নথিতে প্লামি ফ্যাশন্সের আর্থিক সংকটে পড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত বাড়তি দাম মেলেনি ক্রেতাদের কাছ থেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা।

মন্দার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের অর্ডার কমে যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক আয় কমতে থাকে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি ও ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্লামি ফ্যাশন্সের ঋণ ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।

আর্থিক সংকটের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুন নতুন ক্রেতাদের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি চায় প্লামি ফ্যাশন্স। তবে ব্যাংক ২২ জুন সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হলে কারখানা বিক্রি করে ঋণের মূল টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ।

সংকটের নেপথ্যে

পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে প্লামি ফ্যাশন্সের সুনাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। নথি বলছে, সবুজ কারখানা গড়তে গিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেই বাড়তি বিনিয়োগের সুফল মেলেনি। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে যে বাড়তি দাম প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা আদায় করা যায়নি।

একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব পড়ে পোশাক খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যায়। উৎপাদন খরচ ও ব্যাংকঋণের কিস্তি অপরিবর্তিত থাকলেও আয় কমতে থাকে। দুই দিকের এই চাপে নগদ অর্থপ্রবাহে সংকট তৈরি হয়। একপর্যায়ে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি আরও কঠিন হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। ওই মাস থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হয়।

ধারাবাহিক এই সংকটের জেরে ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী, এটি খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ শ্রেণি। এই শ্রেণিকরণের পর ঋণ নিষ্পত্তির উদ্যোগ জোরালো হতে থাকে।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য দেশের পোশাকশিল্পে একসময় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হতো প্লামি ফ্যাশন্সকে। কিন্তু বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হওয়ায় সেই সুনামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির টিকে থাকা নিয়েই এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কারখানা বিক্রির উদ্যোগ

সংকট মোকাবিলায় প্রথমে মালিকানা কাঠামো বদলের চেষ্টা করে প্লামি ফ্যাশন্স। গত ১৬ জুন নতুন ক্রেতাদের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি চাওয়া হয়। ২২ জুন সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ব্যাংক। ফলে মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর বিকল্প পথ হিসেবে পুরো কারখানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় প্লামি ফ্যাশন্সের পরিচালনা পর্ষদ। গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারখানা বিক্রির অর্থ দিয়ে ব্যাংকের ঋণের মূল টাকা এককালীন পরিশোধ করা হবে। এর পরদিনই আইএফআইসি ব্যাংককে চিঠি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠিতে জানানো হয়, কারখানা বিক্রির বিষয়ে একটি উদ্যোগ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিক্রয়মূল্য থেকে মূল ঋণ পরিশোধ করে সুদ ও অন্যান্য চার্জ মওকুফের মাধ্যমে পুরো ঋণ নিষ্পত্তির পরিকল্পনার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

কারখানা বিক্রির প্রক্রিয়া অবশ্য এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বিক্রি সম্পন্ন না হলে প্রস্তাবিত পুরো সমঝোতা পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। পাশাপাশি কারখানাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

ব্যাংকের মামলা

একদিকে সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে আইনি পদক্ষেপ—দুই পথেই এগিয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। ঋণ আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ব্যাংক। গত ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের অর্থঋণ আদালতে প্লামি ফ্যাশন্সের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যাংক। মামলা নম্বর ১৭৩/২০২৬। এতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রায় ২৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

আদালতে দাবি করা অঙ্ক আর প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত পরিশোধের অঙ্কের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। প্লামি ফ্যাশন্স প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধ করে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক আদালতে প্রায় দ্বিগুণ অঙ্ক আদায়ের দাবি জানিয়েছে। ফলে সমঝোতা ও মামলা—দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন।

ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, আদালতের বাইরে যদি প্রস্তাবিত প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়, তাহলে এই খেলাপি ঋণের প্রভাব ব্যাংকের সামগ্রিক খেলাপি ঋণের অনুপাতেও ইতিবাচকভাবে পড়বে। তবে সমঝোতা ব্যর্থ হলে মামলার মাধ্যমেই এগোতে হবে ব্যাংককে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া।

প্লামি ফ্যাশন্সের ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্য নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান। ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২৩৭ দশমিক ৫০ ডেসিমেল জমি ও ভবনের বাজারমূল্য প্রায় ৪৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। কারখানায় থাকা যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য প্রায় ৭২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। জমি, ভবন ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে বন্ধকী সম্পদের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ব্যাংকের পাওনা যেখানে প্রায় ২৬৭ কোটি টাকা, সেখানে বন্ধকী সম্পদের বাজারমূল্য পাওনার তুলনায় প্রায় অর্ধেক। শুধু বাজারমূল্য নয়, দ্রুত বিক্রি বা দুর্যোগজনিত পরিস্থিতিতে এসব সম্পদ থেকে পাওয়া যেতে পারে এমন মূল্য আরও কম।

ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বন্ধকী সম্পদের ডিস্ট্রেস ভ্যালু বা দ্রুত বিক্রয়মূল্য ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই ব্যবধানই ব্যাংকের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন করে তুলেছে।

বন্ধকী সম্পদের মূল্য পাওনার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে সম্পদ বিক্রি করেও পুরো পাওনা আদায় করা কঠিন হতে পারে। তাই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে, নাকি প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী এককালীন অর্থ আদায় করে ঋণ নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

পুরো পাওনা আদায় নাকি মওকুফ

আইএফআইসি ব্যাংকের জন্য বিষয়টি কেবল একটি ঋণ হিসাবের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ, বন্ধকী সম্পদের প্রকৃত মূল্য, মামলা পরিচালনার সময় ও ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত কত টাকা আদায় করা সম্ভব হবে—এমন নানা জটিল সমীকরণ।

প্লামি ফ্যাশন্সের কাছে ব্যাংকের মোট পাওনা ২৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৩২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সুদ ও সংশ্লিষ্ট খাতে মওকুফ চাওয়া হয়েছে। বিপরীতে ১৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পাওনার একটি বড় অংশ ছাড় দিতে হবে ব্যাংককে। তবে প্রস্তাবিত অর্থ এককালীন আদায় করা গেলে খেলাপি ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

অন্যদিকে আদালতের মাধ্যমে মামলা চালিয়ে বন্ধকী সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে। বন্ধকী সম্পদের ডিস্ট্রেস ভ্যালু মাত্র ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা হওয়ায় আদালতের প্রক্রিয়ায় সম্পদ বিক্রি করলেও ব্যাংকের পুরো পাওনা উঠে আসবে না। ফলে সমঝোতা ও মামলার মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

প্লামি ফ্যাশন্সের পক্ষ থেকে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা সুদ ও অন্যান্য চার্জ মওকুফ করে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ঋণ আদায়ে আদালতে মামলা করেছে আইএফআইসি ব্যাংক। ফলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রস্তাবিত অর্থ এককালীন আদায় করে ঋণ নিষ্পত্তি করা হবে, নাকি আদালতের মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

কারখানা বিক্রির চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের পাওনা আদায়ের পথ সহজ হতে পারে। তবে বিক্রি প্রক্রিয়া শেষ না হলে এবং প্রস্তাবিত অর্থ আদায় না হলে ঋণ নিষ্পত্তি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। বন্ধকী সম্পদের বাজারমূল্য ও ডিস্ট্রেস ভ্যালুর সঙ্গে ব্যাংকের মোট পাওনার বড় ব্যবধান বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন

২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশন্স লিমিটেডের কাছে আইএফআইসি ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬৭ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে এই ঋণ ব্যাংকের খাতায় ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এখন সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা মওকুফ চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।

এর বিপরীতে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধ করে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে সমাধান এখনও অনিশ্চিত। একদিকে সমঝোতার মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তি করতে চাইছে প্লামি ফ্যাশন্স। অন্যদিকে ঋণ আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির করা মামলায় প্রায় ২৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সমঝোতা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্লামি ফ্যাশন্সের কারখানা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুরে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকের মোট পাওনা ২৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে মামলা চলাকালীন সুদ, সাসপেন্সে থাকা সুদ এবং আয় হিসেবে স্থানান্তর করা সুদ মিলিয়ে প্রায় ১৩২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মওকুফ চাওয়া হয়েছে।

বাকি ১৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানা বিক্রির মাধ্যমে ঋণের মূল টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।

নথিতে প্লামি ফ্যাশন্সের আর্থিক সংকটে পড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত বাড়তি দাম মেলেনি ক্রেতাদের কাছ থেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা।

মন্দার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের অর্ডার কমে যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক আয় কমতে থাকে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি ও ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্লামি ফ্যাশন্সের ঋণ ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।

আর্থিক সংকটের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুন নতুন ক্রেতাদের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি চায় প্লামি ফ্যাশন্স। তবে ব্যাংক ২২ জুন সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হলে কারখানা বিক্রি করে ঋণের মূল টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ।

সংকটের নেপথ্যে

পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে প্লামি ফ্যাশন্সের সুনাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। নথি বলছে, সবুজ কারখানা গড়তে গিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেই বাড়তি বিনিয়োগের সুফল মেলেনি। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে যে বাড়তি দাম প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা আদায় করা যায়নি।

একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব পড়ে পোশাক খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যায়। উৎপাদন খরচ ও ব্যাংকঋণের কিস্তি অপরিবর্তিত থাকলেও আয় কমতে থাকে। দুই দিকের এই চাপে নগদ অর্থপ্রবাহে সংকট তৈরি হয়। একপর্যায়ে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি আরও কঠিন হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। ওই মাস থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হয়।

ধারাবাহিক এই সংকটের জেরে ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ‘ব্যাড/লস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী, এটি খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ শ্রেণি। এই শ্রেণিকরণের পর ঋণ নিষ্পত্তির উদ্যোগ জোরালো হতে থাকে।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য দেশের পোশাকশিল্পে একসময় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হতো প্লামি ফ্যাশন্সকে। কিন্তু বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হওয়ায় সেই সুনামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির টিকে থাকা নিয়েই এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কারখানা বিক্রির উদ্যোগ

সংকট মোকাবিলায় প্রথমে মালিকানা কাঠামো বদলের চেষ্টা করে প্লামি ফ্যাশন্স। গত ১৬ জুন নতুন ক্রেতাদের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি চাওয়া হয়। ২২ জুন সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ব্যাংক। ফলে মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর বিকল্প পথ হিসেবে পুরো কারখানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় প্লামি ফ্যাশন্সের পরিচালনা পর্ষদ। গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারখানা বিক্রির অর্থ দিয়ে ব্যাংকের ঋণের মূল টাকা এককালীন পরিশোধ করা হবে। এর পরদিনই আইএফআইসি ব্যাংককে চিঠি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠিতে জানানো হয়, কারখানা বিক্রির বিষয়ে একটি উদ্যোগ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিক্রয়মূল্য থেকে মূল ঋণ পরিশোধ করে সুদ ও অন্যান্য চার্জ মওকুফের মাধ্যমে পুরো ঋণ নিষ্পত্তির পরিকল্পনার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

কারখানা বিক্রির প্রক্রিয়া অবশ্য এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বিক্রি সম্পন্ন না হলে প্রস্তাবিত পুরো সমঝোতা পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। পাশাপাশি কারখানাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

ব্যাংকের মামলা

একদিকে সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে আইনি পদক্ষেপ—দুই পথেই এগিয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। ঋণ আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ব্যাংক। গত ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের অর্থঋণ আদালতে প্লামি ফ্যাশন্সের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যাংক। মামলা নম্বর ১৭৩/২০২৬। এতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রায় ২৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

আদালতে দাবি করা অঙ্ক আর প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত পরিশোধের অঙ্কের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। প্লামি ফ্যাশন্স প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধ করে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক আদালতে প্রায় দ্বিগুণ অঙ্ক আদায়ের দাবি জানিয়েছে। ফলে সমঝোতা ও মামলা—দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন।

ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, আদালতের বাইরে যদি প্রস্তাবিত প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়, তাহলে এই খেলাপি ঋণের প্রভাব ব্যাংকের সামগ্রিক খেলাপি ঋণের অনুপাতেও ইতিবাচকভাবে পড়বে। তবে সমঝোতা ব্যর্থ হলে মামলার মাধ্যমেই এগোতে হবে ব্যাংককে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া।

প্লামি ফ্যাশন্সের ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্য নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান। ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২৩৭ দশমিক ৫০ ডেসিমেল জমি ও ভবনের বাজারমূল্য প্রায় ৪৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। কারখানায় থাকা যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য প্রায় ৭২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। জমি, ভবন ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে বন্ধকী সম্পদের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ব্যাংকের পাওনা যেখানে প্রায় ২৬৭ কোটি টাকা, সেখানে বন্ধকী সম্পদের বাজারমূল্য পাওনার তুলনায় প্রায় অর্ধেক। শুধু বাজারমূল্য নয়, দ্রুত বিক্রি বা দুর্যোগজনিত পরিস্থিতিতে এসব সম্পদ থেকে পাওয়া যেতে পারে এমন মূল্য আরও কম।

ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বন্ধকী সম্পদের ডিস্ট্রেস ভ্যালু বা দ্রুত বিক্রয়মূল্য ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই ব্যবধানই ব্যাংকের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন করে তুলেছে।

বন্ধকী সম্পদের মূল্য পাওনার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে সম্পদ বিক্রি করেও পুরো পাওনা আদায় করা কঠিন হতে পারে। তাই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে, নাকি প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী এককালীন অর্থ আদায় করে ঋণ নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

পুরো পাওনা আদায় নাকি মওকুফ

আইএফআইসি ব্যাংকের জন্য বিষয়টি কেবল একটি ঋণ হিসাবের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ, বন্ধকী সম্পদের প্রকৃত মূল্য, মামলা পরিচালনার সময় ও ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত কত টাকা আদায় করা সম্ভব হবে—এমন নানা জটিল সমীকরণ।

প্লামি ফ্যাশন্সের কাছে ব্যাংকের মোট পাওনা ২৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৩২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সুদ ও সংশ্লিষ্ট খাতে মওকুফ চাওয়া হয়েছে। বিপরীতে ১৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পাওনার একটি বড় অংশ ছাড় দিতে হবে ব্যাংককে। তবে প্রস্তাবিত অর্থ এককালীন আদায় করা গেলে খেলাপি ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

অন্যদিকে আদালতের মাধ্যমে মামলা চালিয়ে বন্ধকী সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে। বন্ধকী সম্পদের ডিস্ট্রেস ভ্যালু মাত্র ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা হওয়ায় আদালতের প্রক্রিয়ায় সম্পদ বিক্রি করলেও ব্যাংকের পুরো পাওনা উঠে আসবে না। ফলে সমঝোতা ও মামলার মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

প্লামি ফ্যাশন্সের পক্ষ থেকে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা সুদ ও অন্যান্য চার্জ মওকুফ করে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা এককালীন পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ঋণ আদায়ে আদালতে মামলা করেছে আইএফআইসি ব্যাংক। ফলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রস্তাবিত অর্থ এককালীন আদায় করে ঋণ নিষ্পত্তি করা হবে, নাকি আদালতের মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

কারখানা বিক্রির চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের পাওনা আদায়ের পথ সহজ হতে পারে। তবে বিক্রি প্রক্রিয়া শেষ না হলে এবং প্রস্তাবিত অর্থ আদায় না হলে ঋণ নিষ্পত্তি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। বন্ধকী সম্পদের বাজারমূল্য ও ডিস্ট্রেস ভ্যালুর সঙ্গে ব্যাংকের মোট পাওনার বড় ব্যবধান বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।