রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে বেসরকারি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত ভবিষ্যৎ এবং ব্যাংকের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছানোর সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করলেও সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা যথাযথ সুযোগ পাচ্ছেন না।
গত ২৬ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা (সিআরও) মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। ব্যাংকিং খাতে তাঁর প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জানা গেছে, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের যোগ্যতার মূল্যায়ন, পদোন্নতির সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তারা নিজেদের পেশাগত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁদের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বর্তমানে তাঁদের অনেকেই সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যেও ব্যাংকের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এমডি নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
অবশ্য বেসরকারি ব্যাংকেও দক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা রয়েছেন বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও বৃহৎ ব্যাংক পরিচালনার সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগ্য কর্মকর্তাদেরও সমানভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
পদোন্নতির ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ
জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ পদোন্নতির সুযোগ। তাঁদের মতে, ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কোনো ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) এমডি পদে পদোন্নতি পেলে তাঁর আগের পদটি শূন্য হয়। পরবর্তী সময়ে ওই পদে জিএম এবং জিএম পদে ডিজিএম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এভাবে নিচের স্তরেও পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ থাকে।
কর্মকর্তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নির্বাচন না করে বাইরে থেকে সরাসরি এমডি নিয়োগ দেওয়া হলে ওই পদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হয় না। এতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব বিকাশের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে একটি পদে বহিরাগত নিয়োগ হলেই সব স্তরের পদোন্নতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় না। পদোন্নতির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম), পদসংখ্যা, শূন্য পদ, নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়।
জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন অভিজ্ঞতার কথাও আলোচিত হচ্ছে যে, অনেকে ১৫ থেকে ১৭ বছর চাকরি করেও প্রত্যাশিত পদোন্নতি পাননি। এ অবস্থায় সর্বোচ্চ পদে অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের সুযোগ সীমিত হলে তাঁদের পেশাগত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
বেসরকারি ব্যাংক ছেড়ে আসা কর্মকর্তাদের হতাশা
জনতা ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা কর্মজীবনের শুরুতে বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করেছেন। তাঁদের কেউ ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও), কেউ প্রবেশনারি অফিসার (পিও) কিংবা অন্য পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ তুলনামূলক ভালো বেতন ও দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যোগ দেন।
কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো, গ্রেড, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদে পেশাগত উন্নতির সুযোগ পাবেন। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে বঞ্চনাবোধ তৈরি হয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েও কারও কারও মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মনোবল ও কাজের আগ্রহ ধরে রাখতে পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পরও নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত বলে মনে হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মকর্তাদের আস্থা ও পেশাগত আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন এমডির সামনে আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ
মো. মাহবুব আলমের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে উত্তরা ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সাউথইস্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এনসিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন।
শাখা ও করপোরেট ব্যাংকিং, ঋণ ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ট্রেজারি, পরিচালন কার্যক্রম, প্রবাসী আয়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে অর্থায়নে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তবে জনতা ব্যাংকের মতো বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন এমডির সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, ব্যাংকটির প্রশাসনিক কাঠামো, সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা, অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে তাঁকে দ্রুত পরিচিত হতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের বিদ্যমান সমস্যা ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা বুঝে তাঁদের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা এবং নিজেদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ করা কর্মকর্তাদের আস্থা অর্জনে নতুন এমডির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে পদোন্নতির জটিলতা, কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রত্যাশা এবং প্রশাসনিক সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বচ্ছ নিয়োগনীতি ও ন্যায্য পদোন্নতির দাবি
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর কর্মক্ষেত্রের পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, বেসরকারি ব্যাংক থেকে যোগ্য কাউকে নিয়োগের সুযোগ যেমন থাকা উচিত, তেমনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ যোগ্য কর্মকর্তাদেরও প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মকর্তাদের মতে, শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরি করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমডি পদ পাওয়ার অধিকারী নন। একইভাবে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত হওয়ার কারণেও কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া প্রয়োজন।
পাশাপাশি অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম কার্যকর করা, দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা দূর করা, শূন্য পদ চিহ্নিত করা এবং প্রতিটি স্তরে পদোন্নতির স্বচ্ছ রূপরেখা তৈরির দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা কমবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের আস্থা বাড়বে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনতা ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে কাজ করে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পর্যায়ে উন্নীত হওয়া কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা থাকে, একসময় তাঁরাও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে এনে এমডি নিয়োগ দেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে নতুন এমডিকে তাঁরা কতটা সহযোগিতা করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন এমডির নিয়োগ সম্পর্কে জানতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র উন্মুক্ত থাকা উচিত। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যোগ্যতার ভিত্তিতেই টিকে থাকার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত দক্ষতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও কাজে লাগতে পারে। বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও বর্তমানে খুব ভালো অবস্থায় নেই। তবে তুলনামূলকভাবে তারা কম সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগে যে ধারাবাহিকতায় নিজস্ব জনবল কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রতিষ্ঠানগুলো যে খুব ভালো করেছে, এমনটি বলা যায় না। যদি দেখা যেত, নিজস্ব জনবল বা অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো ভালো পারফর্ম করেছে, খেলাপি ঋণ কমেছে, সুশাসনের ঘাটতি তৈরি হয়নি, তারল্যসংকট দেখা দেয়নি, মূলধনসংকট তৈরি হয়নি কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালনে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, তাহলে বাইরে থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ থাকত।
এই অর্থনীতিবিদের মতে, সরকার এ মুহূর্তে একধরনের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সুশাসনের ঘাটতি থেকে ব্যাংকগুলোকে কিছুটা উত্তরণ ঘটানো যায় কি না, সেটিই হয়তো এই নিয়োগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের বড় একটি অংশ কয়েকটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কাছে আটকে রয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশই শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কাছে। এ তালিকায় বেক্সিমকো, এস আলম ও অ্যাননটেক্সসহ কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। ব্যাংকটির ঝুঁকিতে থাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা একাই বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া বড় ঋণখেলাপিদের মধ্যে রয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও থার্মেক্স গ্রুপ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























