ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশাল বিআরটিএতে সৌরভ সাহার ঘুষ বাণিজ্য, ১১ বছরে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান কাল শুরু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, টিভি ও অনলাইনে দেখবেন যেভাবে শরীরগঠন ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি, সভাপতি হাবিব উল্ল্যাহ ডন হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এমপির সঙ্গে ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকদের ভয় দেখালেন রাজউকের এস্টেট পরিদর্শক ফারুক মালুম  ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ, স্বীকার করলেন ট্রাম্প লালপুরে অনলাইন জুয়া ও আইডি হ্যাকিং চক্রের ২ সদস্য আটক বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে: স্পিকার বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুলের দাপটে জিম্মি ব্যবসায়ীরা

হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী দৈনিক আমাদের মাতৃভূমীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে পরীমণি বুধবার আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পরীমণির পক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদন করে উল্লেখ করেন, এদিন মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার আসামি পরীমণি অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে সময় চাওয়া হয়েছে। অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহল পান করেন। সুযোগ বুঝে তাঁরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে প্রবেশ করে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তাঁর পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

বাদী ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া ১টার দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসির উদ্দিনকে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালমন্দ করেন। বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন। এ ছাড়া হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

এদিকে একই ঘটনায় পরীমণি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বিআরটিএতে সৌরভ সাহার ঘুষ বাণিজ্য, ১১ বছরে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ

হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ০৬:০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী দৈনিক আমাদের মাতৃভূমীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে পরীমণি বুধবার আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পরীমণির পক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদন করে উল্লেখ করেন, এদিন মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার আসামি পরীমণি অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে সময় চাওয়া হয়েছে। অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহল পান করেন। সুযোগ বুঝে তাঁরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে প্রবেশ করে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তাঁর পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

বাদী ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া ১টার দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসির উদ্দিনকে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালমন্দ করেন। বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন। এ ছাড়া হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

এদিকে একই ঘটনায় পরীমণি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।