ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন, যুব ঋণের চেক বিতরণ বান্দরবানে ডেপুটি রেঞ্জার রাশেদুজ্জামানকে ঘিরে সংরক্ষিত বন উজাড়ের অভিযোগ জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া বেতন না দেওয়ার অভিযোগ ছয় বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা, স্বামীকে লিখলেন ‘তুমি আবার বিয়ে কোরো’ কালিয়াকৈরে গোডাউনে আগুন, আটকে দেওয়া হলো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ডিপিডিসি প্রকৌশলী হাবিবুল্লাহর মেগা অনিয়ম ও চরম দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ান চাঁদপুরে পারিবারিক কলহে শাশুড়িকে মারধর, ঘরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, ১৪ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন আওয়ামী প্রভাবে শূন্য থেকে শতকোটির দুর্নীতি : তবুও বহাল তবিয়তে খাদ্য কর্মকর্তা জিকরুল!

আমার দেশ’-এর দুই প্রতিবেদন নিয়ে রাশেদ খানের ক্ষোভ, ছিঁড়লেন পত্রিকার কপি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ফেসবুক ভিডিওতে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে পত্রিকাটির কপি ছিঁড়তে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষোভ প্রকাশ করে পত্রিকার কপি ছিঁড়ছেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, পত্রিকাটির দুটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

ফেসবুক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এটিকে (দৈনিক আমার দেশ) আসলে কোনো পত্রিকা বলা যায় না। আমার দেশ পত্রিকা আমাকে নিয়ে দুটি লিড নিউজ করেছে। গত ১৫ অক্টোবর আমার দেশ পত্রিকার লিড নিউজ ছিল “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?” এখানে মোটামুটি সবার সম্পর্কেই তুলে ধরা হয়েছে। তবে আমি এই সংবাদ পড়তে গিয়ে যেটি বুঝলাম, আমাকে নিয়ে দুই লাইন লিখে খোঁচা মারার উদ্দেশ্যেই এই পত্রিকায় লিড নিউজ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকার পঞ্চম পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশেদ খান বিভিন্ন টিভি টকশোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের পক্ষে বয়ান তৈরিতে সরব ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কিছু কিছু বক্তব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ, এই এক লাইন আমার সম্পর্কে লেখার জন্য আমার দেশ পত্রিকার অনেক কালি খরচ করতে হয়েছে। শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে তো লিড নিউজ করা যায় না। সুতরাং “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সহকারীরা কী করছেন?” এই শিরোনামে তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।’

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আমার দেশে ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘দেখেন, আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি। একই পত্রিকা কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে পারে না। একমাত্র আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষেই সম্ভব এ ধরনের মন্তব্য করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের মিথ্যাচার, বিশেষ করে জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এই বিষয়টি আমি সামনে এনেছি। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি। জামায়াত আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ, যখনই আমার চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করবে, তখন আমার কাছে যে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, সেগুলো তো আমি সবাইকে শেয়ার করব। যে কারণে হয়তো তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুব বেশি কথা বলতে চায় না।’

রাশেদ খান বলেন, ‘আমি সেই সময় উল্লেখ করেছিলাম, মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে না থাকেন এবং তাতে যদি তাদের মানহানি হয়ে থাকে, তবে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। আমি এও বলেছিলাম, জামায়াত দলগতভাবে যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সঠিকভাবে তদন্তের স্বার্থে আমার কাছ থেকে তথ্য নিতে চায়, তবে আমি তাদের সহযোগিতা করব। এমনকি তদন্ত কমিটি গঠন না করে জামায়াতের আমির যদি বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমিও তাঁর সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে রাজি আছি। কিন্তু জামায়াত আমার কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি নয়। কারণ, এই বৈঠক হওয়ার বিষয়টি শতভাগ সত্য। জামায়াত যদি আমার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং প্রমাণ করতে পারে যে আমি মিথ্যাচার করেছি, তবে এ দেশের জনগণ আমাকে যে শাস্তি দেবে, আমি তা মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পেরে, আমার বক্তব্যের সঠিক জবাব দিতে না পেরে, একের পর এক এই যে জামায়াতের দেশ, এটাকে আমি আর আমার দেশ বলতে চাই না। এই জামায়াতের দেশ পত্রিকায় আমার সম্পর্কে লিড নিউজ করে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এখানে শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে আমি ২০১৮ সালে জেল খেটেছিলাম। আমি টানা ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। অতিরিক্ত আরও তিন দিন আমাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।’

‘হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার ছবি যুক্ত করে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মজলুম সাংবাদিক বা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল। তিনিও আওয়ামী লীগের সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি একজন মজলুম হয়ে যে রাশেদ খান ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হলো, মজলুম হলো, তাকে নিয়ে এভাবে ট্যাগিং করা অন্তত মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ পত্রিকার সঙ্গে যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন, যুব ঋণের চেক বিতরণ

আমার দেশ’-এর দুই প্রতিবেদন নিয়ে রাশেদ খানের ক্ষোভ, ছিঁড়লেন পত্রিকার কপি

আপডেট সময় ১২:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ফেসবুক ভিডিওতে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে পত্রিকাটির কপি ছিঁড়তে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষোভ প্রকাশ করে পত্রিকার কপি ছিঁড়ছেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, পত্রিকাটির দুটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

ফেসবুক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এটিকে (দৈনিক আমার দেশ) আসলে কোনো পত্রিকা বলা যায় না। আমার দেশ পত্রিকা আমাকে নিয়ে দুটি লিড নিউজ করেছে। গত ১৫ অক্টোবর আমার দেশ পত্রিকার লিড নিউজ ছিল “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?” এখানে মোটামুটি সবার সম্পর্কেই তুলে ধরা হয়েছে। তবে আমি এই সংবাদ পড়তে গিয়ে যেটি বুঝলাম, আমাকে নিয়ে দুই লাইন লিখে খোঁচা মারার উদ্দেশ্যেই এই পত্রিকায় লিড নিউজ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকার পঞ্চম পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশেদ খান বিভিন্ন টিভি টকশোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের পক্ষে বয়ান তৈরিতে সরব ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কিছু কিছু বক্তব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ, এই এক লাইন আমার সম্পর্কে লেখার জন্য আমার দেশ পত্রিকার অনেক কালি খরচ করতে হয়েছে। শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে তো লিড নিউজ করা যায় না। সুতরাং “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সহকারীরা কী করছেন?” এই শিরোনামে তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।’

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আমার দেশে ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘দেখেন, আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি। একই পত্রিকা কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে পারে না। একমাত্র আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষেই সম্ভব এ ধরনের মন্তব্য করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের মিথ্যাচার, বিশেষ করে জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এই বিষয়টি আমি সামনে এনেছি। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি। জামায়াত আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ, যখনই আমার চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করবে, তখন আমার কাছে যে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, সেগুলো তো আমি সবাইকে শেয়ার করব। যে কারণে হয়তো তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুব বেশি কথা বলতে চায় না।’

রাশেদ খান বলেন, ‘আমি সেই সময় উল্লেখ করেছিলাম, মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে না থাকেন এবং তাতে যদি তাদের মানহানি হয়ে থাকে, তবে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। আমি এও বলেছিলাম, জামায়াত দলগতভাবে যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সঠিকভাবে তদন্তের স্বার্থে আমার কাছ থেকে তথ্য নিতে চায়, তবে আমি তাদের সহযোগিতা করব। এমনকি তদন্ত কমিটি গঠন না করে জামায়াতের আমির যদি বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমিও তাঁর সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে রাজি আছি। কিন্তু জামায়াত আমার কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি নয়। কারণ, এই বৈঠক হওয়ার বিষয়টি শতভাগ সত্য। জামায়াত যদি আমার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং প্রমাণ করতে পারে যে আমি মিথ্যাচার করেছি, তবে এ দেশের জনগণ আমাকে যে শাস্তি দেবে, আমি তা মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পেরে, আমার বক্তব্যের সঠিক জবাব দিতে না পেরে, একের পর এক এই যে জামায়াতের দেশ, এটাকে আমি আর আমার দেশ বলতে চাই না। এই জামায়াতের দেশ পত্রিকায় আমার সম্পর্কে লিড নিউজ করে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এখানে শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে আমি ২০১৮ সালে জেল খেটেছিলাম। আমি টানা ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। অতিরিক্ত আরও তিন দিন আমাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।’

‘হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার ছবি যুক্ত করে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মজলুম সাংবাদিক বা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল। তিনিও আওয়ামী লীগের সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি একজন মজলুম হয়ে যে রাশেদ খান ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হলো, মজলুম হলো, তাকে নিয়ে এভাবে ট্যাগিং করা অন্তত মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ পত্রিকার সঙ্গে যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’