ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বৃষ্টিতে কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে ব্যাংকক, রেড অ্যালার্ট জারি সিনেমায় নয়, চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের জালে অভিনেত্রী আত্রাই মহিলা কলেজে এমপি শেখ রেজাউল ইসলামকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ সাইবার সুরক্ষা আইন অপব্যবহার করবে না সরকার : তথ্য উপদেষ্টা এবার ডিজেল রপ্তানি বন্ধে যে সিদ্ধান্ত জানালেন ট্রাম্প বোরহানউদ্দিনে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় জালাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে পোল্ট্রি খামারিদের আহ্বান পবিপ্রবি উপাচার্যের অপ্রতিমের বাবাকে একাধিক নম্বর থেকে ফোন, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও ডাকাতিসহ গ্রেপ্তার ১১

এবার ডিজেল রপ্তানি বন্ধে যে সিদ্ধান্ত জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রপ্তানি সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, রপ্তানি কমিয়ে দিলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমার বদলে উল্টো উৎপাদন কমে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজার—দুই জায়গাতেই দাম বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে প্রতি লিটারের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২১০ টাকা। এক মাস আগে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার, অর্থাৎ প্রতি লিটার প্রায় ১৮১ টাকা।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির উৎপাদিত ডিজেলের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে রপ্তানি কমানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সীমাবদ্ধতা নিয়ে বড় তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণা করা হয়নি। হোয়াইট হাউজও জানিয়েছে, প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্স/ইপসসের আগস্টের এক জরিপে ৪৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডিজেলের সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও সরবরাহ কমেছে।

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় কয়েকটি বড় শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির কোথাও ডিজেল উৎপাদন কমেছে, আবার কোথাও উৎপাদন বন্ধও হয়েছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ডিজেল মজুতও কমছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত কমে ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়ায়। এটি চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের মজুত।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক মনে করছেন, সাময়িকভাবে রপ্তানি বন্ধ করলে দেশের ভেতরে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমতে পারে।

আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি এবং আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান সাময়িক রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। টেনেসির কংগ্রেসম্যান টিম বারচেটও ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার বিষয়ে দুটি বিল উত্থাপন করেছেন। এর একটি বিলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের বড় আশঙ্কা এখানেই। রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

কারণ, রপ্তানি বন্ধের পর দেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের মজুত দ্রুত বেড়ে গেলে সংরক্ষণ সক্ষমতা কমে আসতে পারে। মজুত রাখার জায়গা পূর্ণ হয়ে গেলে শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমিয়ে দিতে পারে।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণেও এমন আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক বিশ্লেষণ বলছে, পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল উৎপাদন দৈনিক সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে।

এর ফলে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পেট্রল আমদানিকারক দেশেও পরিণত হতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি কমালে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে দেশটির ওপর নির্ভরশীল বাজারগুলো। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। ইউরোপের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমে গেলে এসব দেশের ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল কিনতে হবে। এতে সীমিত সরবরাহের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারদরেও।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের ঘাটতি পূরণের মতো অতিরিক্ত শোধন সক্ষমতা বড় দেশগুলোর মধ্যে চীনের রয়েছে। তবে চীন সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার প্রভাব শুধু সড়ক পরিবহন বা পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ কমে গেলে অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা জানিয়েছে, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে।

সব ধরনের রপ্তানি বন্ধ না করে সীমিত বা স্বেচ্ছামূলকভাবে রপ্তানি কমানোর পথও বিবেচনায় রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ র‍্যাচেল জিয়েমারের মতে, এমন ব্যবস্থায় কিছু দেশের জন্য ছাড় রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে, তাদের ক্ষেত্রে রপ্তানি সীমাবদ্ধতায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মূল উদ্বেগ, ডিজেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত উল্টো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিজেলের সংকট ও দাম দুটিই বাড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বৃষ্টিতে কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে ব্যাংকক, রেড অ্যালার্ট জারি

এবার ডিজেল রপ্তানি বন্ধে যে সিদ্ধান্ত জানালেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৩:৩২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রপ্তানি সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, রপ্তানি কমিয়ে দিলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমার বদলে উল্টো উৎপাদন কমে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজার—দুই জায়গাতেই দাম বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে প্রতি লিটারের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২১০ টাকা। এক মাস আগে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার, অর্থাৎ প্রতি লিটার প্রায় ১৮১ টাকা।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির উৎপাদিত ডিজেলের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে রপ্তানি কমানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সীমাবদ্ধতা নিয়ে বড় তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণা করা হয়নি। হোয়াইট হাউজও জানিয়েছে, প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্স/ইপসসের আগস্টের এক জরিপে ৪৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডিজেলের সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও সরবরাহ কমেছে।

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় কয়েকটি বড় শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির কোথাও ডিজেল উৎপাদন কমেছে, আবার কোথাও উৎপাদন বন্ধও হয়েছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ডিজেল মজুতও কমছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত কমে ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়ায়। এটি চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের মজুত।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক মনে করছেন, সাময়িকভাবে রপ্তানি বন্ধ করলে দেশের ভেতরে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমতে পারে।

আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি এবং আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান সাময়িক রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। টেনেসির কংগ্রেসম্যান টিম বারচেটও ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার বিষয়ে দুটি বিল উত্থাপন করেছেন। এর একটি বিলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের বড় আশঙ্কা এখানেই। রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

কারণ, রপ্তানি বন্ধের পর দেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের মজুত দ্রুত বেড়ে গেলে সংরক্ষণ সক্ষমতা কমে আসতে পারে। মজুত রাখার জায়গা পূর্ণ হয়ে গেলে শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমিয়ে দিতে পারে।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণেও এমন আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক বিশ্লেষণ বলছে, পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল উৎপাদন দৈনিক সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে।

এর ফলে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পেট্রল আমদানিকারক দেশেও পরিণত হতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি কমালে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে দেশটির ওপর নির্ভরশীল বাজারগুলো। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। ইউরোপের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমে গেলে এসব দেশের ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল কিনতে হবে। এতে সীমিত সরবরাহের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারদরেও।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের ঘাটতি পূরণের মতো অতিরিক্ত শোধন সক্ষমতা বড় দেশগুলোর মধ্যে চীনের রয়েছে। তবে চীন সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার প্রভাব শুধু সড়ক পরিবহন বা পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ কমে গেলে অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা জানিয়েছে, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে।

সব ধরনের রপ্তানি বন্ধ না করে সীমিত বা স্বেচ্ছামূলকভাবে রপ্তানি কমানোর পথও বিবেচনায় রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ র‍্যাচেল জিয়েমারের মতে, এমন ব্যবস্থায় কিছু দেশের জন্য ছাড় রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে, তাদের ক্ষেত্রে রপ্তানি সীমাবদ্ধতায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মূল উদ্বেগ, ডিজেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত উল্টো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিজেলের সংকট ও দাম দুটিই বাড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা