ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনবিআর কর কমিশনার রাকিবের বিরুদ্ধে ৩২৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি মুকসুদপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের পরিবারের নামে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ দুবাইয়ে এইচবিএম ইকবালের ৭ বিলাসবহুল সম্পত্তি নিয়ে এনবিআরের অনুসন্ধান বরগুনার বেতাগীতে সেই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন বড়লেখায় সিন্ডিকেট ভাঙায় হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিল পুনঃনিলামে, রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ

জুলাইয়ে হামলার সংবাদ প্রচার করা টিভি বন্ধে আরাফাতকে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সংবাদ প্রচার করা টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এমন তথ্য উঠে এসেছে প্রসিকিউশনের উপস্থাপন করা নতুন একটি কল রেকর্ডে।

সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে কল রেকর্ডটি প্রমাণ হিসেবে জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওবায়দুল কাদের ও অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিনে এই রেকর্ডিং উপস্থাপন করা হয়।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপন করা কল রেকর্ডে, ওবায়দুল কাদেরকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তিনি সংঘাতের খবর যাতে প্রচার না করা হয়, সে বিষয়ে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দেন।

জবাবে আরাফাত জানান, আগের দিনই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলোও তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কথোপকথনে আরাফাত আরও জানান, সংঘাতের ছবি, ভিডিও বা ফুটেজ প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের সম্প্রচার নজরদারির ব্যবস্থার কথাও জানান।

জবাবে আরাফাত জানান, আগের দিনই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলোও তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কথোপকথনে আরাফাত আরও জানান, সংঘাতের ছবি, ভিডিও বা ফুটেজ প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের সম্প্রচার নজরদারির ব্যবস্থার কথাও জানান।

এ সময় কাদেরের কাছে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন আরাফাত। কল রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি পরিস্থিতিকে দুই ভাগে ভাগ করে উপস্থাপনের কথা বলেন। একদিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এবং অন্যদিকে ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসেবে জামায়াত-বিএনপির লোকজন সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ করছে বলে জানায় আরাফাত।

তিনি আরও বলেন, কারফিউয়ের সিদ্ধান্তকে জামায়াত-বিএনপির ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে এবং কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে যাওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।

এর আগে, গত রোববার (৯ আগস্ট) মামলার যুক্তিতর্কের তৃতীয় দিনে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথনের আরেকটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন।

ওই কল রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে পলক তাকে জানিয়েছিলেন, এ পদক্ষেপ নেয়ার আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

জুলাইয়ে হামলার সংবাদ প্রচার করা টিভি বন্ধে আরাফাতকে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

আপডেট সময় ০৪:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সংবাদ প্রচার করা টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এমন তথ্য উঠে এসেছে প্রসিকিউশনের উপস্থাপন করা নতুন একটি কল রেকর্ডে।

সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে কল রেকর্ডটি প্রমাণ হিসেবে জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওবায়দুল কাদের ও অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিনে এই রেকর্ডিং উপস্থাপন করা হয়।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপন করা কল রেকর্ডে, ওবায়দুল কাদেরকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তিনি সংঘাতের খবর যাতে প্রচার না করা হয়, সে বিষয়ে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দেন।

জবাবে আরাফাত জানান, আগের দিনই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলোও তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কথোপকথনে আরাফাত আরও জানান, সংঘাতের ছবি, ভিডিও বা ফুটেজ প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের সম্প্রচার নজরদারির ব্যবস্থার কথাও জানান।

জবাবে আরাফাত জানান, আগের দিনই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলোও তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কথোপকথনে আরাফাত আরও জানান, সংঘাতের ছবি, ভিডিও বা ফুটেজ প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের সম্প্রচার নজরদারির ব্যবস্থার কথাও জানান।

এ সময় কাদেরের কাছে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন আরাফাত। কল রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি পরিস্থিতিকে দুই ভাগে ভাগ করে উপস্থাপনের কথা বলেন। একদিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এবং অন্যদিকে ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসেবে জামায়াত-বিএনপির লোকজন সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ করছে বলে জানায় আরাফাত।

তিনি আরও বলেন, কারফিউয়ের সিদ্ধান্তকে জামায়াত-বিএনপির ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে এবং কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে যাওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।

এর আগে, গত রোববার (৯ আগস্ট) মামলার যুক্তিতর্কের তৃতীয় দিনে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথনের আরেকটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন।

ওই কল রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে পলক তাকে জানিয়েছিলেন, এ পদক্ষেপ নেয়ার আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।