রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাসহ বিভিন্ন থানায় সাম্প্রতিক সময়ে দায়ের হওয়া বেশ কিছু মামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জালিয়াতি, নাম বাণিজ্যের সিন্ডিকেট এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিএমএম কোর্টের মামলা নম্বর ৩৫০/২৬ এবং পরবর্তীতে উত্তরা পূর্ব থানায় গৃহীত ১০ নম্বর মামলাসহ (তারিখ: ১০/০৪/২০২৪) বেশ কিছু মামলার নাম বিশ্লেষণ করে ভুক্তভোগী পরিবারসমূহ ও সচেতন মহল এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
অডিও থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনুসন্ধানী তথ্য:
- মামলার অসংগতি ও অবাস্তব চিত্র: উত্তরা পূর্ব থানার ১০ নম্বর মামলায় গত ২০২৪ সালের ১৮ বা ১৯ এপ্রিল সকাল ১১ ঘটিকার একটি হত্যা/সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগীদের দাবিতে উঠে এসেছে, এ মামলায় ৩৫০ থেকে শুরু করে ৫০০/৬০০ বা ততোধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের ৯৯ শতাংশ আসামিরই উক্ত ঘটনার সঙ্গে কোনো ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই।
- রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের: মামলায় এমন বহু ব্যক্তিকে আসামি বা সহযোগী হিসেবে জড়ানো হয়েছে, যাদের আওয়ামী লীগ বা কোনো অঙ্গসংগঠনের কোনো পদ-পদবি কখনোই ছিল না। মূলত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, চক্রান্তকারী ও সুবিধাবাদী আইনজীবীর মাধ্যমে বিএনপি-সমর্থিত স্থানীয় ব্যক্তি এবং সাধারণ নির্দোষ মানুষদের জড়িয়ে এই সাজানো ও মিথ্যা মামলাগুলো তৈরি করা হয়েছে।
- উকিল সিন্ডিকেট ও ‘নাম বাণিজ্য’ অভিযোগ: ঢাকা বার ও কোর্টের একটি নির্দিষ্ট অসাধু আইনজীবী চক্র—বিশেষ করে আইনজীবী রেজওয়ান করিম ও তার জুনিয়রদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ ও টাইপিস্টদের মাধ্যমে গুটিকয়েক ভুয়া নাম জড়িয়ে ড্রাফটিং করার মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে। এজাহার থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নাম না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার ‘মামলা বাণিজ্য’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
- আদালত ও থানার ভূমিকা: সিএমএম কোর্ট থেকে ৩২ বছর বয়সী শাহরিয়ার মান্নান আসিফসহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব বাদী দিয়ে দায়েরকৃত আবেদনগুলোকে বিজ্ঞ আদালত এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিলে থানা তা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে পুলিশের একাংশ এবং আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা)-রা এই বিশালাকার কাল্পনিক আসামি তালিকার ভয় দেখিয়ে নিরীহ ও নির্দোষ পরিবারের কাছে অবৈধ বাণিজ্য ও অর্থ দাবি করছে বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারসমূহের চার দফা জরুরি দাবি:
১. ঘটনা, স্থান, কাল ও পাত্র সাপেক্ষে তথ্যপ্রযুক্তির নিরপেক্ষ ব্যবহার: ঘটনার সময় (দিন, তারিখ ও সময়) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলের ১০-২০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইলের ভেতরে ছিলেন কি না—তা মোবাইল ট্র্যাকিং, টাওয়ার লোকেশন (CDR), ডেটাবেজ বিশ্লেষণ এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ঘটনার সময় অনুপস্থিত বা বিদেশে অবস্থানরত নিরপরাধ ব্যক্তিদের অবিলম্বে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
২. ‘জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি’ ও যৌথ তদন্ত কমিটি: মামলা বাণিজ্যের এই চক্র ভাঙতে কেবল থানার তদন্তের ওপর নির্ভর না করে পুলিশ, সিআইডি, ডিবি এবং এসবির সমন্বয়ে একটি সমন্বিত যৌথ তদন্ত কমিটি অথবা বিচার বিভাগীয় তদন্ত (Judicial Inquiry) নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও নিরীহদের মুক্তি: ফ্যাসিবাদের প্রকৃত দোসর ও মূল অপরাধীদের আড়াল করে নিরীহ সাধারণ মানুষকে বলির পাঁঠা বানানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবিহীন, নির্দোষ বা হয়রানির শিকার পরিবার যেন ভুয়া চক্রান্তের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা (IO)-দের শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
৪. উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের প্রতি বিশেষভাবে আকুল আবেদন জানানো হচ্ছে—থানা ও কোর্ট প্রাঙ্গণে সচল থাকা এই অসাধু ‘মামলা ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট’ দ্রুত ভেঙে দিয়ে নিরীহ ভুক্তভোগীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করা হোক এবং অসাধু চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























