এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী। মামলায় ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানের বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার জজ কোর্টের পারিবারিক আদালত-২-এ মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
অভিযুক্ত শিক্ষক ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান। তাঁর স্ত্রী মোসা. রোজিনা সুলতানা এক্সিম ব্যাংক পিএলসির জুনিয়র অফিসার।
মামলার আরজিতে বলা হয়, সাভারের একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতায় ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর তাঁদের বিয়ে হয়। বিবাদীর আগের বিয়ে ও তালাকের তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিয়ে ও তালাকের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাঁরা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। তাঁদের নাম সামিন আব্দুল্লাহ বিন শাহাদাত ও সোহরাব আয়াতুল্লাহ বিন শাহাদাত।
আরজিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর ফ্ল্যাট কেনার জন্য বাদীর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন বিবাদী। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সংসারের খরচ ও সন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে বাদীর ভাড়া বাসা থেকে চলে যান তিনি। পরে স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়।
মামলার হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছর দুই মাসে বাদী ও তাঁদের দুই সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ মোট ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর বিপরীতে বিবাদী বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করেছেন মাত্র ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে ভরণপোষণ বাবদ ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় কাবিননামা অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানের বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের আবেদন জানিয়েছেন বাদী। পাশাপাশি ইদ্দতকালীন ও ভবিষ্যৎ ভরণপোষণও দাবি করেছেন তিনি।
মামলার বিষয়ে রোজিনা সুলতানা বলেন, যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে এখনো মামলা করা হয়নি। সন্তানদের ভরণপোষণ এবং প্রাপ্য দেনমোহরের টাকা আদায়ের দাবিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি আইনি হওয়ায় সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতামত পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























