ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো: মির্জা ফখরুল লিগ্যাল প্রফেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিতে চাই: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির ৪ সদস্যের সাক্ষাৎ মেট্রোরেলের নতুন রুট তৈরিতে খরচ বেড়ে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি কমলনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরের মৃত্যু বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির ৪ নতুন সদস্য শহীদ জিয়া’র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন নাইজেরিয়ায় রাতভর হামলায় নিহত ২৫ ভঙ্গুর অর্থনীতিতেই দেশের হাল ধরেছে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী চোরাচালান ও আটক পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন আদেশ জারি

অধিকাংশ বিদেশির জন্য বাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করল কানাডা

কানাডায় বিদেশিদের আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রোববার (১ জানুয়ারি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরও হয়েছে। মূলত আবাসন সংকটের সম্মুখীন কানাডার স্থানীয়দের জন্য আরও বাড়ি সহজলভ্য রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে সোমবার (২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডায় বিদেশিদের আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন উদ্বাস্তু এবং কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা যারা দেশটির নাগরিক নন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা বাড়ি কেনার অনুমতি পাবেন।

গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে অটোয়া আরও স্পষ্ট করে যে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র শহরের বাসস্থানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং গ্রীষ্মকালীন কটেজগুলোর মতো বিনোদনমূলক সম্পত্তিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। আপাতত দুই বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এএফপি বলছে, বিদেশিদের বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দুই বছরের এই অস্থায়ী পদেক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রস্তাব করেছিলেন। সেসময় কানাডাজুড়ে ক্রমবর্ধমান দাম অনেক কানাডিয়ানদের জন্য বাড়ির মালিকানা নাগালের বাইরে রেখেছিল।

সেই ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর নন-কানাডিয়ান অ্যাক্টের মাধ্যমে (বিদেশিদের) আবাসিক সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর চুপিসারে নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তন করে লিবারেল পার্টি। ভ্যাঙ্কুভার এবং টরন্টোর মতো প্রধান বাজারগুলোও অনাবাসী এবং খালি বাড়ির ওপর কর আরোপ করে। এরপর কানাডায় বাড়ির দাম অনেকটা কমে আসে। কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কানাডায় বাড়ির গড় দাম ২০২২ সালের শুরুতে ৫ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে গত মাসে মাত্র ৪ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিদেশি ক্রেতাদের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা কানাডার বাড়িগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করতে কার্যকর কোনও প্রভাব ফেলবে না। এই ধরনের পদক্ষেপের পরিবর্তে বরং তারা চাহিদা মেটাতে আরও আবাসন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করছেন।

কানাডার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা অনুসারে, দেশটিতে বিদেশিদের বাড়ির মালিকানা পাঁচ শতাংশেরও কম। উত্তর আমেরিকার এই দেশটির জাতীয় আবাসন সংস্থা কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশন গত বছরের জুনের একটি প্রতিবেদনে বলেছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১৯ মিলিয়ন হাউজিং ইউনিট প্রয়োজন হবে। এর অর্থ হলো দেশটিতে আরও ৫.৮ মিলিয়ন নতুন বাড়ি তৈরি করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

অধিকাংশ বিদেশির জন্য বাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করল কানাডা

আপডেট সময় ০২:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জানুয়ারী ২০২৩

কানাডায় বিদেশিদের আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রোববার (১ জানুয়ারি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরও হয়েছে। মূলত আবাসন সংকটের সম্মুখীন কানাডার স্থানীয়দের জন্য আরও বাড়ি সহজলভ্য রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে সোমবার (২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডায় বিদেশিদের আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন উদ্বাস্তু এবং কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা যারা দেশটির নাগরিক নন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা বাড়ি কেনার অনুমতি পাবেন।

গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে অটোয়া আরও স্পষ্ট করে যে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র শহরের বাসস্থানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং গ্রীষ্মকালীন কটেজগুলোর মতো বিনোদনমূলক সম্পত্তিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। আপাতত দুই বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এএফপি বলছে, বিদেশিদের বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দুই বছরের এই অস্থায়ী পদেক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রস্তাব করেছিলেন। সেসময় কানাডাজুড়ে ক্রমবর্ধমান দাম অনেক কানাডিয়ানদের জন্য বাড়ির মালিকানা নাগালের বাইরে রেখেছিল।

সেই ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর নন-কানাডিয়ান অ্যাক্টের মাধ্যমে (বিদেশিদের) আবাসিক সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর চুপিসারে নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তন করে লিবারেল পার্টি। ভ্যাঙ্কুভার এবং টরন্টোর মতো প্রধান বাজারগুলোও অনাবাসী এবং খালি বাড়ির ওপর কর আরোপ করে। এরপর কানাডায় বাড়ির দাম অনেকটা কমে আসে। কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কানাডায় বাড়ির গড় দাম ২০২২ সালের শুরুতে ৫ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে গত মাসে মাত্র ৪ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিদেশি ক্রেতাদের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা কানাডার বাড়িগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করতে কার্যকর কোনও প্রভাব ফেলবে না। এই ধরনের পদক্ষেপের পরিবর্তে বরং তারা চাহিদা মেটাতে আরও আবাসন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করছেন।

কানাডার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা অনুসারে, দেশটিতে বিদেশিদের বাড়ির মালিকানা পাঁচ শতাংশেরও কম। উত্তর আমেরিকার এই দেশটির জাতীয় আবাসন সংস্থা কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশন গত বছরের জুনের একটি প্রতিবেদনে বলেছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১৯ মিলিয়ন হাউজিং ইউনিট প্রয়োজন হবে। এর অর্থ হলো দেশটিতে আরও ৫.৮ মিলিয়ন নতুন বাড়ি তৈরি করতে হবে।