ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক ছাত্রদলের পরিচয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ, বেপরোয়া জহির গং সিন্ডিকেট স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে ইতু হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি গ্রেপ্তার তাড়াইলে কলেরা টিকার দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসি সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ১,৩২৪ রোগী; মেঝেতেও চিকিৎসা কমলনগরে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, টিনের চাল কেটে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি কালিহাতীতে প্রটেকটিভ ইসলামী লাইফ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রংপুরে ভন্ড কবিরাজের তোপের মুখে সাংবাদিক

রংপুরের মাহিগঞ্জে এক ভন্ড কবিরাজের অপকর্ম ও পারিবারিক বিরোধের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন এক গণমাধ্যমকর্মী। শুধু তাই নয়, ক্যামেরা ভাঙচুরের পর ওই সাংবাদিককে আসামি করে থানায় মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার রংপুর মহানগর প্রতিনিধি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর (২০২৫) সকাল ৮টার দিকে মাহিগঞ্জ থানার বিহারী গ্রামে মোবারক কবিরাজ ও তার ভাই শাহজাহানের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ এবং কবিরাজির নামে প্রতারণা বন্ধ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোবারক কবিরাজের দুই ছেলে সুজন ও সজল ঘটনাস্থলে এসে রহিম ও সরোয়ার নামের দুজনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক জাহিদ। তিনি তার ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে মারামারির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মোবারক ও তার ছেলেরা। তারা সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হাত থেকে ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এসময় তারা সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।

ঘটনার দুই দিন পর মোবারক কবিরাজের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম সুজন বাদী হয়ে মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-২/৭৮) দায়ের করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক জাহিদকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। তবে বিজ্ঞ আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেছেন।

এলাকাবাসী ও মামলার সাক্ষী কপিল উদ্দিন এবং লাল মিয়া জানান, মোবারক এলাকায় ভন্ড কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা তার এই ভন্ডামি বন্ধ করতে চাওয়ার কারণেই বিরোধের সূত্রপাত। সাংবাদিক জাহিদ কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন, তাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও মূল ঘটনা কবিরাজির নামে প্রতারণা।

এ বিষয়ে মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সাংবাদিকের সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

স্থানীয়রা বলছেন, নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং সাংবাদিককে হয়রানি করতেই এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন মোবারক কবিরাজ।


আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক

রংপুরে ভন্ড কবিরাজের তোপের মুখে সাংবাদিক

আপডেট সময় ০৭:২০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের মাহিগঞ্জে এক ভন্ড কবিরাজের অপকর্ম ও পারিবারিক বিরোধের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন এক গণমাধ্যমকর্মী। শুধু তাই নয়, ক্যামেরা ভাঙচুরের পর ওই সাংবাদিককে আসামি করে থানায় মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার রংপুর মহানগর প্রতিনিধি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর (২০২৫) সকাল ৮টার দিকে মাহিগঞ্জ থানার বিহারী গ্রামে মোবারক কবিরাজ ও তার ভাই শাহজাহানের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ এবং কবিরাজির নামে প্রতারণা বন্ধ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোবারক কবিরাজের দুই ছেলে সুজন ও সজল ঘটনাস্থলে এসে রহিম ও সরোয়ার নামের দুজনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক জাহিদ। তিনি তার ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে মারামারির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মোবারক ও তার ছেলেরা। তারা সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হাত থেকে ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এসময় তারা সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।

ঘটনার দুই দিন পর মোবারক কবিরাজের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম সুজন বাদী হয়ে মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-২/৭৮) দায়ের করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক জাহিদকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। তবে বিজ্ঞ আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেছেন।

এলাকাবাসী ও মামলার সাক্ষী কপিল উদ্দিন এবং লাল মিয়া জানান, মোবারক এলাকায় ভন্ড কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা তার এই ভন্ডামি বন্ধ করতে চাওয়ার কারণেই বিরোধের সূত্রপাত। সাংবাদিক জাহিদ কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন, তাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও মূল ঘটনা কবিরাজির নামে প্রতারণা।

এ বিষয়ে মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সাংবাদিকের সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

স্থানীয়রা বলছেন, নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং সাংবাদিককে হয়রানি করতেই এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন মোবারক কবিরাজ।