ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদকবিরোধী ভূমিকার কুচক্রী মহলের নিশানায় ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান নাশকতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে: গয়েশ্বর নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস চুল টেনে লাল কার্ড খেলেন দুই খেলোয়াড় হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কীটনাশক ও বালাইনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশেহারা তাড়াইল উপজেলার কৃষক একটি দল বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মীর শাহে আলম মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরিলুট কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন ডিলান-বারবারা

মারা গেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সিতি হাসমাহ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী তাঁর মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।

দেশটির প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন ছিলেন সিতি হাসমাহ। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পরের বছর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।

চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছেন সিতি হাসমাহ। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে ১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

১৯৯২ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন দল দীর্ঘ ২৫ বছর পর থমাস কাপ জয় করলে সিতি হাসমাহর আবেগঘন মুহূর্ত দেশটির মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। দলের খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন বলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তাঁর সঙ্গী ছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় মাহাথিরকে তিনি কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এবং নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী ভূমিকার কুচক্রী মহলের নিশানায় ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান

মারা গেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সিতি হাসমাহ

আপডেট সময় ১১:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী তাঁর মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।

দেশটির প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন ছিলেন সিতি হাসমাহ। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পরের বছর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।

চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছেন সিতি হাসমাহ। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে ১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

১৯৯২ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন দল দীর্ঘ ২৫ বছর পর থমাস কাপ জয় করলে সিতি হাসমাহর আবেগঘন মুহূর্ত দেশটির মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। দলের খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন বলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তাঁর সঙ্গী ছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় মাহাথিরকে তিনি কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এবং নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।