ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ নির্ঘুম রাতে আচমকা গাছ ভেঙে মৃত্যু গৃহবধূর, প্রাণে বাঁচলেন স্বামী-শি’শু ভেড়ামারায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রযুক্তি অংশীদারত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ও গুগলের আলোচনা আত্রাইয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে জোরালো পদক্ষেপের তাগিদ ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবির উদ্যোগে মাসব্যাপী ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ শুরু মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ: সিটি করপোরেশনের ৩ গাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, শাহাবুদ্দিন-মামুনের বিরুদ্ধে কিশোর অপরাধ ঠেকাতে কুমিল্লায় রাতভর অভিযান, আটক ৩৭৯

মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরিলুট

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরিলুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১-২৩ অর্থবছরের ‘১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে বৃক্ষরোপণসহ বাগান তৈরি এবং উপকারভোগীদের মাঝে বিলবোর্ড তৈরিকরণ’ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩৬ টাকা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে কাজের পরিধি নামমাত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের জন্য সরকারি মোটা অঙ্কের বাজেট থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১ হাজার ইট দিয়ে একটি ছোট বাগানসদৃশ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাগানে ৩২০টি সুপারি চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সরকারি বরাদ্দের এই টাকা চারা রোপণ বা বাগান তৈরির পেছনে আদৌ খরচ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সুপারি চারাগুলো লাগিয়েছেন শাল্টি গোপালপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলামের ছেলে মো. লিমন মিয়া। তিনি জানান, নিজের পকেট থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এসব চারা লাগিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রকল্প থেকে তাকে এখন পর্যন্ত একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। ফলে নিজের হাড়ভাঙা খাটুনি ও পুঁজি বিনিয়োগ করেও এখন দিশেহারা এই শ্রমিক।

এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন সংরক্ষিত ২ নম্বর আসনের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোছা. ছালমা বেগম। সরকারি বিপুল বরাদ্দ থাকার পরও কেন মাঠপর্যায়ের কর্মী তার পাওনা টাকা পাননি এবং কেনই বা পুরো টাকার কাজ মাঠে দৃশ্যমান নয়-তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং জনরোষ থেকে বাঁচতে প্রকল্পের মূল কাজের নামফলকটি মুছে ফেলার পাঁয়তারা চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত ২ নম্বর আসনের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোছা. ছালমা বেগম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।’ ১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ‘উপরোক্ত বিষয়ে তথ্যসহ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ

মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরিলুট

আপডেট সময় ০১:০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরিলুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১-২৩ অর্থবছরের ‘১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে বৃক্ষরোপণসহ বাগান তৈরি এবং উপকারভোগীদের মাঝে বিলবোর্ড তৈরিকরণ’ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩৬ টাকা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে কাজের পরিধি নামমাত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের জন্য সরকারি মোটা অঙ্কের বাজেট থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১ হাজার ইট দিয়ে একটি ছোট বাগানসদৃশ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাগানে ৩২০টি সুপারি চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সরকারি বরাদ্দের এই টাকা চারা রোপণ বা বাগান তৈরির পেছনে আদৌ খরচ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সুপারি চারাগুলো লাগিয়েছেন শাল্টি গোপালপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলামের ছেলে মো. লিমন মিয়া। তিনি জানান, নিজের পকেট থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এসব চারা লাগিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রকল্প থেকে তাকে এখন পর্যন্ত একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। ফলে নিজের হাড়ভাঙা খাটুনি ও পুঁজি বিনিয়োগ করেও এখন দিশেহারা এই শ্রমিক।

এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন সংরক্ষিত ২ নম্বর আসনের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোছা. ছালমা বেগম। সরকারি বিপুল বরাদ্দ থাকার পরও কেন মাঠপর্যায়ের কর্মী তার পাওনা টাকা পাননি এবং কেনই বা পুরো টাকার কাজ মাঠে দৃশ্যমান নয়-তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং জনরোষ থেকে বাঁচতে প্রকল্পের মূল কাজের নামফলকটি মুছে ফেলার পাঁয়তারা চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত ২ নম্বর আসনের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোছা. ছালমা বেগম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।’ ১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ‘উপরোক্ত বিষয়ে তথ্যসহ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’