‘নগর হবে মানুষের, সেবা হবে অধিকার,
পরিকল্পিত উন্নয়নে বদলে যাবে নগরীর অন্ধকার।’
একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে সালাউদ্দিন তিতুর নাম। নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা, নাগরিক ভোগান্তি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে পরিকল্পিত নগর গড়ার প্রত্যাশা এবং সেবার মানোন্নয়নের প্রশ্নে তাঁকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশার কথা বলছেন তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের দৃষ্টিতে, ময়মনসিংহের নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রয়োজন জনসম্পৃক্ত, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।
ময়মনসিংহ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন এ নগরীতে বাড়ছে মানুষের চলাচল ও নাগরিক চাহিদা। কিন্তু নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক অবকাঠামো এবং সেবাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখল এবং অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যানজট নিরসনে প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা
ময়মনসিংহ নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। অটোরিকশা, ইজিবাইক, রিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের অবাধ চলাচলে অনেক সময় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক পরিকল্পনা, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা, নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ।
সালাউদ্দিন তিতুকে ঘিরে নগর উন্নয়নের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে আধুনিক ও জনবান্ধব যানবাহন ব্যবস্থাপনা। তবে এ ক্ষেত্রে হকার, রিকশা ও অটোরিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। উচ্ছেদ নয়, বরং পুনর্বাসন ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি।
জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী গড়ার প্রত্যাশা
বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। কোথাও ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে ধীরগতি, কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা, আবার কোথাও অপরিকল্পিত অবকাঠামো এ সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন।
শুধু নতুন রাস্তা নির্মাণ করলেই নগর উন্নয়ন সম্পূর্ণ হয় না। রাস্তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত, সড়কবাতি এবং নিরাপদ পথচারী চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
একটি শহরের সৌন্দর্য শুধু দালানকোঠা কিংবা প্রশস্ত সড়কে সীমাবদ্ধ নয়; পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজায়নও আধুনিক নগরীর অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ময়লা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা, নালা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি নগরীর খেলার মাঠ, পার্ক, জলাশয় ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ করে শিশু-কিশোর ও প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জরুরি
নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি সেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হওয়া। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা প্রদানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ করা হলে নগরবাসীর আস্থা বাড়বে। জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা, কর্মসংস্থান ও পরিকল্পিত নগরায়ণ
ময়মনসিংহের তরুণ সমাজ একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় নগরী দেখতে চায়। যেখানে থাকবে মানসম্মত সড়ক, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, নিরাপদ চলাচল, খেলাধুলার পরিবেশ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের অনুকূল পরিবেশ। নগরীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে নগরীর নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে পরিকল্পিত নগরায়ণের নীতিমালা অনুসরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সালাউদ্দিন তিতুকে ঘিরে প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। মেয়র পদকে ঘিরে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁকে ঘিরে যে প্রত্যাশার কথা বলা হচ্ছে, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হলে প্রয়োজন সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নযোগ্য অঙ্গীকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির মানসিকতা।
নগরবাসীর কাছে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে। তাই যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক নিরাপত্তা, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সালাউদ্দিন তিতুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নাগরিক সমস্যা সমাধানে তাঁর অবস্থান এবং নগর উন্নয়নে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগই তাঁর প্রতি জনআস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
‘স্বপ্ন যদি হয় নগর গড়ার, উদ্যোগ হোক জনতার, সেবার আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘর-দুয়ার।’
ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা, নগরীর নেতৃত্বে যিনিই আসুন, তিনি যেন ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেন। উন্নয়ন যেন হয় পরিকল্পিত, সেবা যেন হয় বৈষম্যহীন এবং নগর পরিচালনা যেন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।
সালাউদ্দিন তিতুকে ঘিরে নতুন আশার যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব রূপ পাবে কি না, সেটি নির্ভর করবে ময়মনসিংহবাসীর ওপর। তাঁদের চাওয়া কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতি নয়; তাঁদের চাওয়া একটি সুন্দর, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী।
সালাউদ্দিন তিতুর লক্ষ্য একটাই—উন্নত নাগরিক সেবা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ময়মনসিংহ।
মো. রাসেল ফকির-ময়মনসিংহ ব্যুরোপ্রধান 






















