ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি ঢাবিতে ৯ ককটেল বিস্ফোরণ: আটক তিনজনের পরিচয় জানা গেল দুর্নীতিতে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতিগুলো: রাষ্ট্রপতি সরকারি ওষুধ কেনা-বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, রাজস্থলী হাসপাতালে দুদকের অভিযান এলজিইডির উদ্যোগে পঞ্চগড়ে তিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন আ.লীগের ফিরে আসা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী দীপকের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা নিয়ে ক্ষোভ, ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফ্লাইওভার থেকে পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিপাকে কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তাঁর সহযোগী সোহেল নামের এক ব্যক্তির নামও রয়েছে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। ভুক্তভোগীর বাড়ি গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায়। ওসি ও তাঁর লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অভিযোগে ওই তরুণী বলেন—দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী/ভুক্তভোগী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান। সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁর (ভুক্তভোগীর) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং প্রতিনিয়ত মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালে ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁর বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে (ভুক্তভোগী) নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত। সে আমাকে (ভুক্তভোগী) নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী আরও বলেন—এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে (ভুক্তভোগীকে) পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায়, ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর বন্ধু সোহেল এবং তাঁর কথিত এক আঙ্কেলকে আমার (ভুক্তভোগীর) বাসায় পাঠান। এ সময় তাঁরা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেন। বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তাঁর সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারেন। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠান, যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বিয়ের কিছু টাকা দেবেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ব্যবহারকারী ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করেছেন। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাঁদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান মাছরাঙা টেলিভিশনকে জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে। তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিপাকে কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার

আপডেট সময় ০৮:৪১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তাঁর সহযোগী সোহেল নামের এক ব্যক্তির নামও রয়েছে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। ভুক্তভোগীর বাড়ি গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায়। ওসি ও তাঁর লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অভিযোগে ওই তরুণী বলেন—দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী/ভুক্তভোগী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান। সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁর (ভুক্তভোগীর) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং প্রতিনিয়ত মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালে ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁর বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে (ভুক্তভোগী) নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত। সে আমাকে (ভুক্তভোগী) নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী আরও বলেন—এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে (ভুক্তভোগীকে) পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায়, ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর বন্ধু সোহেল এবং তাঁর কথিত এক আঙ্কেলকে আমার (ভুক্তভোগীর) বাসায় পাঠান। এ সময় তাঁরা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেন। বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তাঁর সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারেন। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠান, যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বিয়ের কিছু টাকা দেবেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ব্যবহারকারী ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করেছেন। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাঁদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান মাছরাঙা টেলিভিশনকে জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে। তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।