বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের । ২০১৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলার সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। মোমিন মোল্লা ও আনোয়ারা বেগমের পুত্র রেজাউল ছাত্রলীগ কোটায় চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্র রাজনীতির প্রভাব ও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিগত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে তিনি স্বল্প সময়ে অঢেল অর্থ ও ক্ষমতার মালিক হয়ে ওঠেন এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের নানা অভিযোগ ধামাচাপা দেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বহাল তবিয়তে থাকা কর্মকর্তা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা ভোল পাল্টে স্বপদে বহাল রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরে বিগত সরকারের আমলে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়, যার অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন রেজাউল করিম। দুই দফা সরকার পরিবর্তন হলেও শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত এই চক্রের সদস্যরা এখনো নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি লটারির মাধ্যমে গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলি করা হলে রেজাউল করিম ময়মনসিংহে বদলি হন।
বিলাসিতা ও নামে-বেনামে অর্জিত অঢেল সম্পদ: ষষ্ঠ গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে মাত্র ৭ বছরের চাকরি জীবনে বৈধ আয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব হলেও রেজাউল করিম গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল জীবনযাপন। ভাঙা টিনের ঘরে বেড়ে ওঠা রেজাউল চাকরি পাওয়ার পরপরই গ্রামে নির্মাণ করেছেন এক আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর আফতাবনগরের ই-ব্লকের ১৭/১৯ নম্বরের একটি ভবনের ‘বি/২’ নম্বর ফ্ল্যাটে তিনি বাস করেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। ওই ভবনের মালিকদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে এবং তিনি ব্যবহার করেন প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি। এছাড়া রাজধানীসহ ফরিদপুর সদর, সদরপুর উপজেলা এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিপুল পরিমাণ জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
স্বজনদের নামে সম্পদ হস্তান্তর ও ব্যাংক লেনদেন: আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে রেজাউল করিম তাঁর অর্জিত অধিকাংশ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিজের বাবা মোমিন মোল্লা, মা আনোয়ারা বেগম, স্ত্রী ফারহানা সুলতানা, শ্বশুর সুলতান আহমেদ, শাশুড়ি ফেরদৌসী আহমেদ, সন্তান ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে ক্রয় করেছেন। অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, উল্লিখিত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ধরে সম্পদের বিবরণী ও ব্যাংকিং লেনদেন যাচাই করলে দুর্নীতির প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে। একই সাথে পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। গণমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রেজাউল করিমের অতীত কর্মস্থলের যাবতীয় নথি ও ফাইলপত্র সঠিকভাবে তদন্ত করলেই তাঁর সমস্ত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া সম্ভব।
উত্থাপিত দুর্নীতির সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিবরণ পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























