ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি ঢাবিতে ৯ ককটেল বিস্ফোরণ: আটক তিনজনের পরিচয় জানা গেল দুর্নীতিতে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতিগুলো: রাষ্ট্রপতি সরকারি ওষুধ কেনা-বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, রাজস্থলী হাসপাতালে দুদকের অভিযান এলজিইডির উদ্যোগে পঞ্চগড়ে তিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন আ.লীগের ফিরে আসা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী দীপকের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা নিয়ে ক্ষোভ, ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফ্লাইওভার থেকে পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা
হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে অসংগতি

আমির হামজার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের অসংগতি, তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ভোটার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাব, নগদ অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, স্ত্রীর সম্পদের বিবরণ, বাড়িভাড়া থেকে আয়, গাড়ির মূল্য, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তাঁর আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য নথির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ব্যালেন্স ও নগদ অর্থের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকার তথ্য রয়েছে। একইভাবে হলফনামায় উল্লেখ করা নগদ অর্থের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থেরও পার্থক্য রয়েছে।

এ ছাড়া সংসদ সদস্যের স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন, তাঁর নামে থাকা কৃষি ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ এবং কুষ্টিয়া শহরে আমির হামজার নামে থাকা একটি আবাসিক প্লটের তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারী।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য, বাড়িভাড়া থেকে আয়, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। পাশাপাশি হলফনামায় উল্লেখ করা স্বর্ণের পরিমাণ ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম তাঁর আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১(৫) ধারা অনুযায়ী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে একই আদেশের ৯১(২) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা, নির্বাচন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন তিনি।

আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন, স্ত্রীর আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র, নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সম্পত্তির দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কুষ্টিয়া-৩ আসনের একজন ভোটার ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এ অভিযোগ করেছি। আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। এসব তথ্য সবার সামনে উন্মুক্ত হওয়া এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত বা কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি

হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে অসংগতি

আমির হামজার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন

আপডেট সময় ০২:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের অসংগতি, তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ভোটার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাব, নগদ অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, স্ত্রীর সম্পদের বিবরণ, বাড়িভাড়া থেকে আয়, গাড়ির মূল্য, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তাঁর আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য নথির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ব্যালেন্স ও নগদ অর্থের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকার তথ্য রয়েছে। একইভাবে হলফনামায় উল্লেখ করা নগদ অর্থের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থেরও পার্থক্য রয়েছে।

এ ছাড়া সংসদ সদস্যের স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন, তাঁর নামে থাকা কৃষি ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ এবং কুষ্টিয়া শহরে আমির হামজার নামে থাকা একটি আবাসিক প্লটের তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারী।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য, বাড়িভাড়া থেকে আয়, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। পাশাপাশি হলফনামায় উল্লেখ করা স্বর্ণের পরিমাণ ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম তাঁর আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১(৫) ধারা অনুযায়ী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে একই আদেশের ৯১(২) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা, নির্বাচন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন তিনি।

আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন, স্ত্রীর আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র, নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সম্পত্তির দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কুষ্টিয়া-৩ আসনের একজন ভোটার ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এ অভিযোগ করেছি। আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। এসব তথ্য সবার সামনে উন্মুক্ত হওয়া এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত বা কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।