বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নিয়মের তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রক্টরের প্রশ্রয়ে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা রেজিস্ট্রারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান দোকান নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হতাশা চত্বর’ সংলগ্ন তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রবেশপথের পাশে বাঁশ দিয়ে একটি বড় দোকান নির্মাণ করেছেন তিনি। এ ছাড়া টিএসসির সামনেও আরেকটি দোকান নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবৈধ দোকান নির্মাণে প্রশ্রয় ও অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টরের দাবি, দোকানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আবাসিক হলকেন্দ্রিক স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বাণিজ্যিক দোকান বসানোর নিয়ম নেই। প্রশাসন কিংবা এস্টেট শাখার কোনো লিখিত অনুমতিপত্র ছাড়াই দোকান দুটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বিধিমালা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এ ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার প্রক্টর অফিসের নেই বলে জানা গেছে। এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানকে দোকান নির্মাণের অনুমোদন ও সার্বিক প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “ক্যাম্পাসের মধ্যে দোকানটি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান দিয়েছেন। প্রথমে প্রশাসনের কেউ বিষয়টি জানত না। তাঁরা মূলত উপাচার্য স্যারের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে এসব করছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, “দোকান আমি করি আর যে-ই করুক, প্রক্টর স্যারের অনুমতি নিয়েই তা করা হয়েছে।”
দোকান নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা ও হল প্রশাসন। তাপসী রাবেয়া বসরী হলের সেকশন অফিসার সিনথিয়া শারমিন হলের প্রবেশপথে এভাবে দোকান নির্মাণ করায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এস্টেট শাখাকে বিষয়টি জানান।
এ বিষয়ে এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, “হলের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বড় একটি দোকান এবং টিএসসির সামনে আরেকটি দোকান উঠেছে। খবর পেয়ে পুরো টিম নিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে দুটি দোকান দেখতে পাই। এস্টেট শাখা থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনায় আমি হতবাক। হলের প্রধান রাস্তায় এভাবে দোকান বসানোয় ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এবং প্রশাসনকেও অবহিত করেছি।”
অন্যদিকে, সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ ছাত্রদল নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “কোনো ছাত্রদল নেতা দোকান করছেন না, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে এস্টেট শাখা অবগত।”
তবে এস্টেট শাখা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে জানানো হলে তিনি রেজিস্ট্রার শাখার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, “না, না, আমি এ বিষয়ে কোনো অনুমতি দিইনি। আমি জানিও না। আর তারা আমার নাম কেন ব্যবহার করবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিছু করতে হলে নিয়মকানুন মেনে করতে হবে। আমার নাম নিয়ে কেন করবে তারা?”
ববি প্রতিনিধি 






















