ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্বৈরাচারের দোসর এলজিইডির “দীপ্ত দাস বহাল তবিয়তে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

ফেনীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম ও অভিযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত দাসের কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, তিনি প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন, যার ফলে সরকারি উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি পলাতক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন শীলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। শুসেন শীল ও তার ভাতিজা ডালিম শীল এলাকার বাইরে চলে যাওয়ার পর তাদের পরিচালিত ঠিকাদারি কাজের দায়িত্ব কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেন। স্থানীয়দের মতে, সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে থাকা সত্ত্বেও তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর ভূমিকা পালন করেছেন। এতে প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলার কালিদহ ও লেমুয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েছে। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হলে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ও গভীরতা নির্দিষ্ট করা হলেও বাস্তবে কম প্রস্থ ও কম গভীরতায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধরনের অমিল স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশেষ আবেদন দেখিয়ে পুনরায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই দীর্ঘায়িত সময় প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা আনার পরিবর্তে অনিয়মকে বড় হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকল্পের পরিচালনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দায়িত্বে থাকার সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে অর্থের বিনিময়ে ঠিকাদারদের প্রভাবিত করেছেন। প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে ঘুষ বা আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে কাজ পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের সমঝোতার কারণে অনিয়ম ধরা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রমাণ বা সরকারি রিপোর্ট পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করেছেন। তাদের মতে, আয়ের উৎস ও জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিয়ে এলজিইডির জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুকের নিরব ভূমিকা অনিয়মকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত দাস বলেন, দৌলতপুর সড়কের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি কেবল সাময়িক বিরতি এবং প্রকৃত সমস্যা সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও অনিয়মের কারণে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে না। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয়দের নজর, স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধান এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে যে, অনিয়ম ও দায়িত্বের অপব্যবহার একাধিক স্তরে বিদ্যমান। প্রকল্প অনুমোদন, তদারকি, ঠিকাদারি কার্যক্রম, সময়সীমা এবং প্রকল্প মানের দিকে নজর রাখা একটানা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক তদারকিতে স্বচ্ছতা না থাকলে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে।

এই প্রকল্পগুলোর ব্যয়, মান এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা আশা করছেন যে, সরকারি পর্যায়ের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী চিহ্নিত হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, অভিযোগ ও সন্দেহের বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও অনিয়মের কারণে তার ফলাফল স্বল্পাংশেই সীমিত হয়ে যাবে। এজন্য তারা প্রস্তাব করেছেন, সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রকল্পে স্বাধীন ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

এলজিইডি ও স্থানীয় প্রশাসনের দিকে তাদের আহ্বান, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। স্থানীয়দের দৃষ্টিতে, প্রকল্পের তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সময়সীমা পূরণ নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা অপরিহার্য।

প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে এই ধরনের অভিযোগের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অনিয়মের কারণে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসছে না। তাই তারা দাবি করছেন, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের সব ধাপ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সরকারি তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার অন্যান্য এলজিইডি প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এতে করে জনগণের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক তদারকি শক্তিশালী না হলে এই ধরনের অনিয়ম চলতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রকল্পে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের সমস্ত তথ্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে যে কোনরকম অনিয়ম, দায়িত্বের অপব্যবহার বা আর্থিক প্রণোদনার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এতে করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

উপজেলার বাসিন্দারা এ বিষয়ে বলছেন, প্রকল্পের মান, সময়সীমা ও বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তারা মনে করছেন, শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রকল্পের তদারকি ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন।

এইভাবে, ফেনীতে এলজিইডি প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমে অভিযোগ ও অনিয়ম উঠে এসেছে—যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, সরকারি ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

স্বৈরাচারের দোসর এলজিইডির “দীপ্ত দাস বহাল তবিয়তে

আপডেট সময় ০১:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম ও অভিযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত দাসের কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, তিনি প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন, যার ফলে সরকারি উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি পলাতক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন শীলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। শুসেন শীল ও তার ভাতিজা ডালিম শীল এলাকার বাইরে চলে যাওয়ার পর তাদের পরিচালিত ঠিকাদারি কাজের দায়িত্ব কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেন। স্থানীয়দের মতে, সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে থাকা সত্ত্বেও তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর ভূমিকা পালন করেছেন। এতে প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলার কালিদহ ও লেমুয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েছে। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হলে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ও গভীরতা নির্দিষ্ট করা হলেও বাস্তবে কম প্রস্থ ও কম গভীরতায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধরনের অমিল স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশেষ আবেদন দেখিয়ে পুনরায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই দীর্ঘায়িত সময় প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা আনার পরিবর্তে অনিয়মকে বড় হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকল্পের পরিচালনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দায়িত্বে থাকার সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে অর্থের বিনিময়ে ঠিকাদারদের প্রভাবিত করেছেন। প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে ঘুষ বা আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে কাজ পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের সমঝোতার কারণে অনিয়ম ধরা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রমাণ বা সরকারি রিপোর্ট পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করেছেন। তাদের মতে, আয়ের উৎস ও জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিয়ে এলজিইডির জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুকের নিরব ভূমিকা অনিয়মকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত দাস বলেন, দৌলতপুর সড়কের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি কেবল সাময়িক বিরতি এবং প্রকৃত সমস্যা সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও অনিয়মের কারণে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে না। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয়দের নজর, স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধান এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে যে, অনিয়ম ও দায়িত্বের অপব্যবহার একাধিক স্তরে বিদ্যমান। প্রকল্প অনুমোদন, তদারকি, ঠিকাদারি কার্যক্রম, সময়সীমা এবং প্রকল্প মানের দিকে নজর রাখা একটানা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক তদারকিতে স্বচ্ছতা না থাকলে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে।

এই প্রকল্পগুলোর ব্যয়, মান এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা আশা করছেন যে, সরকারি পর্যায়ের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী চিহ্নিত হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, অভিযোগ ও সন্দেহের বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও অনিয়মের কারণে তার ফলাফল স্বল্পাংশেই সীমিত হয়ে যাবে। এজন্য তারা প্রস্তাব করেছেন, সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রকল্পে স্বাধীন ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

এলজিইডি ও স্থানীয় প্রশাসনের দিকে তাদের আহ্বান, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। স্থানীয়দের দৃষ্টিতে, প্রকল্পের তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সময়সীমা পূরণ নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা অপরিহার্য।

প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে এই ধরনের অভিযোগের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অনিয়মের কারণে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসছে না। তাই তারা দাবি করছেন, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের সব ধাপ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সরকারি তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার অন্যান্য এলজিইডি প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এতে করে জনগণের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক তদারকি শক্তিশালী না হলে এই ধরনের অনিয়ম চলতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রকল্পে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের সমস্ত তথ্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে যে কোনরকম অনিয়ম, দায়িত্বের অপব্যবহার বা আর্থিক প্রণোদনার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এতে করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

উপজেলার বাসিন্দারা এ বিষয়ে বলছেন, প্রকল্পের মান, সময়সীমা ও বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তারা মনে করছেন, শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রকল্পের তদারকি ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন।

এইভাবে, ফেনীতে এলজিইডি প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমে অভিযোগ ও অনিয়ম উঠে এসেছে—যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, সরকারি ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।