ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রমজানের আগে বাজারে অস্থিরতা, বিপাকে ক্রেতা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। বাজারে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই দেখা গেছে হতাশ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ায় খেজুর ও ফলমূলের বাজারে প্রভাব স্পষ্ট। আগে যেখানে প্রতি কেজি খেজুর ২০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকায়। একইভাবে আঙ্গুরের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
শুধু ফলমূল নয়, কাঁচাবাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রসুনের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া দেশীয় মাছের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সবজি বাজারেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি। দুই দিন আগেও প্রতি কেজি শসা ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ টাকায় উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে যে লেবুর হালি ৩২ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি বেগুন ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা এবং গাজর ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে আসা অনেক ক্রেতা জানান, হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রমজান সামনে রেখে বাড়তি কেনাকাটার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তারা বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং রমজানকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

রমজানের আগে বাজারে অস্থিরতা, বিপাকে ক্রেতা

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। বাজারে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই দেখা গেছে হতাশ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ায় খেজুর ও ফলমূলের বাজারে প্রভাব স্পষ্ট। আগে যেখানে প্রতি কেজি খেজুর ২০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকায়। একইভাবে আঙ্গুরের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
শুধু ফলমূল নয়, কাঁচাবাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রসুনের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া দেশীয় মাছের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সবজি বাজারেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি। দুই দিন আগেও প্রতি কেজি শসা ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ টাকায় উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে যে লেবুর হালি ৩২ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি বেগুন ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা এবং গাজর ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে আসা অনেক ক্রেতা জানান, হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রমজান সামনে রেখে বাড়তি কেনাকাটার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তারা বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং রমজানকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।