ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল, মাঠে একাধিক শক্ত প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটের সমীকরণ জটিল রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিভাজন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দলীয় বিভক্তির কারণে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একাংশ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও অন্য অংশ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়ার মোটরসাইকেল প্রতীকের দিকে ঝুঁকছে। এতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পূর্ণ শক্তি নিয়ে এগোতে পারছেন না।

এদিকে আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। এই আসন থেকে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তার একটি নিজস্ব ও স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে, যার ওপর ভর করেই তিনি নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়া মোটরসাইকেল প্রতীকের মাধ্যমে মূলত বিএনপির ভোট বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এতে করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আরও চাপে পড়েছেন এবং প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করায় ইতিমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী প্রচারণার দিক থেকে সবচেয়ে দৃশ্যমান অবস্থানে রয়েছেন। ফেস্টুন, ব্যানার, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তার সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।

এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলী আহমেদ আমজাদ (হাতপাখা) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে হাঁস, ধানের শীষ, মোটরসাইকেল ও লাঙ্গল প্রতীকের মধ্যে।

সব মিলিয়ে, কালিহাতী আসনে ভোটের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। বিএনপির ভোট বিভাজনের কারণে ধানের শীষ চাপে রয়েছে, লতিফ সিদ্দিকী নিজস্ব ভোটব্যাংক নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন এবং লিয়াকত আলীর সক্রিয় প্রচারণা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে এগিয়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল, মাঠে একাধিক শক্ত প্রার্থী

আপডেট সময় ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটের সমীকরণ জটিল রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিভাজন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দলীয় বিভক্তির কারণে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একাংশ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও অন্য অংশ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়ার মোটরসাইকেল প্রতীকের দিকে ঝুঁকছে। এতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পূর্ণ শক্তি নিয়ে এগোতে পারছেন না।

এদিকে আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। এই আসন থেকে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তার একটি নিজস্ব ও স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে, যার ওপর ভর করেই তিনি নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়া মোটরসাইকেল প্রতীকের মাধ্যমে মূলত বিএনপির ভোট বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এতে করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আরও চাপে পড়েছেন এবং প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করায় ইতিমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী প্রচারণার দিক থেকে সবচেয়ে দৃশ্যমান অবস্থানে রয়েছেন। ফেস্টুন, ব্যানার, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তার সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।

এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলী আহমেদ আমজাদ (হাতপাখা) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে হাঁস, ধানের শীষ, মোটরসাইকেল ও লাঙ্গল প্রতীকের মধ্যে।

সব মিলিয়ে, কালিহাতী আসনে ভোটের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। বিএনপির ভোট বিভাজনের কারণে ধানের শীষ চাপে রয়েছে, লতিফ সিদ্দিকী নিজস্ব ভোটব্যাংক নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন এবং লিয়াকত আলীর সক্রিয় প্রচারণা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে এগিয়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।