ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রংপুরে অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে ভোক্তা কর্মকর্তা

  • রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

রংপুর সিটি বাজারে অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। রমজান উপলক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সিটি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় মাছ বাজারে রঙ্গীন লাইট লাগিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার কথা বলেন ভোক্তা কর্মকর্তারা। এ সময় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামালসহ অন্য ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে অভিযান বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে অভিযান পরিচালনা থেকে সরে এসে মাছ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এর আগে, ভোক্তা কর্মকর্তারা খেজুরের বাজারে অভিযান চালান। এ সময় খেজুরের মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও মানসম্মত পণ্য বিক্রি না করার অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী-পরিচালক মমতাজ বেগম, রংপুর চেম্বারের পরিচালক পার্থ বোসসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রংপুর সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসায়ী নেতাদের অবগত না করেই ভোক্তা অধিদপ্তর বাজারে অভিযান চালিয়েছে। রমজান উপলক্ষ্যে সোমবার ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যার প্রতিপালন ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে। এরই মধ্যেই ভোক্তার কর্মকর্তা এসে জরিমানা শুরু করেছে। আমাদের অনুরোধে তিনি অভিযান থেকে সরে এসে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাছ বাজারে ব্যবসায়ীরা রঙ্গীন লাইট জ্বালিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে। বিগত সময় সিটি বাজারে মাছের দোকানে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আজও অভিযানের সময় বেশিরভাগ দোকানে রঙ্গীন আলোর লাইট পাওয়া গেছে। অপরাধ বিবেচনায় তাদের জরিমানা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধে সর্তক করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অসঙ্গতির কারণে দুটি খেজুরের দোকানে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে, রংপুরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বেগুনের দাম। সেইসঙ্গে দাম বেড়েছে লেবু, শসা, রসুন, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম, মাছ-মাংস, চাল-ডালসহ অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিকন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩০-৪০ টাকা। আর গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০-১২০ টাকা।

এদিকে পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, ফুলকপি ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপির পিস ১৫-২০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৫০-৬০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫-৩০ টাকা, দুধকুষি ৫০-৬০ টাকা, শিম ২৫-৩০ থেকে বেড়ে ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, করলা ১৫০-১৬০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়ার দাম বেড়ে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

রংপুরে অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে ভোক্তা কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৯:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুর সিটি বাজারে অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। রমজান উপলক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সিটি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় মাছ বাজারে রঙ্গীন লাইট লাগিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার কথা বলেন ভোক্তা কর্মকর্তারা। এ সময় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামালসহ অন্য ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে অভিযান বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে অভিযান পরিচালনা থেকে সরে এসে মাছ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এর আগে, ভোক্তা কর্মকর্তারা খেজুরের বাজারে অভিযান চালান। এ সময় খেজুরের মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও মানসম্মত পণ্য বিক্রি না করার অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী-পরিচালক মমতাজ বেগম, রংপুর চেম্বারের পরিচালক পার্থ বোসসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রংপুর সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসায়ী নেতাদের অবগত না করেই ভোক্তা অধিদপ্তর বাজারে অভিযান চালিয়েছে। রমজান উপলক্ষ্যে সোমবার ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যার প্রতিপালন ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে। এরই মধ্যেই ভোক্তার কর্মকর্তা এসে জরিমানা শুরু করেছে। আমাদের অনুরোধে তিনি অভিযান থেকে সরে এসে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাছ বাজারে ব্যবসায়ীরা রঙ্গীন লাইট জ্বালিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে। বিগত সময় সিটি বাজারে মাছের দোকানে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আজও অভিযানের সময় বেশিরভাগ দোকানে রঙ্গীন আলোর লাইট পাওয়া গেছে। অপরাধ বিবেচনায় তাদের জরিমানা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধে সর্তক করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অসঙ্গতির কারণে দুটি খেজুরের দোকানে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে, রংপুরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বেগুনের দাম। সেইসঙ্গে দাম বেড়েছে লেবু, শসা, রসুন, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম, মাছ-মাংস, চাল-ডালসহ অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিকন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩০-৪০ টাকা। আর গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০-১২০ টাকা।

এদিকে পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, ফুলকপি ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপির পিস ১৫-২০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৫০-৬০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫-৩০ টাকা, দুধকুষি ৫০-৬০ টাকা, শিম ২৫-৩০ থেকে বেড়ে ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, করলা ১৫০-১৬০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়ার দাম বেড়ে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।