ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাজু-মিজান-রানার সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার চক্র পেট্রোবাংলার পরিচালক রফিকুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এই মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে: ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে স্বাগত জানাতে কুলাউড়ায় বিশাল প্রচার মিছিল ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন রানার দুদক কর্তৃক দায়মুক্তির রহস্য উন্মোচনের দাবি ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুজি অত্যাবশ্যক: ছারছীনার পীর ছাহেব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারে ৪টি আসনের প্রার্থীর ভোটের তীব্র লড়াই ঝালকাঠি আদালতে ভুয়া আইনজীবী মনজুরুল আটক যে দল কর্মজীবী নারীদের ‘বেশ্যা’ বলে, তাদের মন থেকে মুছে ফেলতে হবে”: নাসের রহমান মনোহরগঞ্জে এনসিপি নেতার উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল 

শ্রীমঙ্গলে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রায় নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ-২.০–এর দুই পরিচিত মুখ নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সরব উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের স্টেশন রোডে আয়োজিত পথসভায় তারা এনসিপির প্রতীক শাপলা কলির পক্ষে ভোট চান এবং একই সঙ্গে “জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে” সহিংস রাজনীতি, যবরদখল ও চাঁদাবাজি বন্ধের কঠোর ঘোষণা দেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। অতীতে নির্বাচনকালীন সময় ঘিরে একাধিকবার হুমকি, প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে যবরদখল, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি আর চলবে না। এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি আইনগত হুঁশিয়ারি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও হুমকি প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বাচন আচরণবিধি, দণ্ডবিধি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
নাহিদ – আসিফ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য এনসিপির বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে, যেখানে নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রচারণা চালানো বাধ্যতামূলক। এর বাইরে কোনো কর্মসূচি বা আইন লঙ্ঘন হলে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন সময়কালই পরীক্ষা করবে—এই কঠোর বক্তব্য বাস্তবে প্রয়োগ হয়, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকে।
মৌলভীবাজার-৪ এ এনসিপির প্রচারণা ও বাংলাদেশ-২.০ নেতাদের বক্তব্য আপাতদৃষ্টিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে। তবে অনুসন্ধান বলছে, স্থানীয় বাস্তবতা, অতীত অভিজ্ঞতা এবং আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এই ঘোষণার কার্যকারিতা সময়ই নির্ধারণ করবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাজু-মিজান-রানার সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার চক্র

শ্রীমঙ্গলে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রায় নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় ১১:৫৮:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ-২.০–এর দুই পরিচিত মুখ নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সরব উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের স্টেশন রোডে আয়োজিত পথসভায় তারা এনসিপির প্রতীক শাপলা কলির পক্ষে ভোট চান এবং একই সঙ্গে “জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে” সহিংস রাজনীতি, যবরদখল ও চাঁদাবাজি বন্ধের কঠোর ঘোষণা দেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। অতীতে নির্বাচনকালীন সময় ঘিরে একাধিকবার হুমকি, প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে যবরদখল, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি আর চলবে না। এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি আইনগত হুঁশিয়ারি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও হুমকি প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বাচন আচরণবিধি, দণ্ডবিধি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
নাহিদ – আসিফ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য এনসিপির বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে, যেখানে নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রচারণা চালানো বাধ্যতামূলক। এর বাইরে কোনো কর্মসূচি বা আইন লঙ্ঘন হলে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন সময়কালই পরীক্ষা করবে—এই কঠোর বক্তব্য বাস্তবে প্রয়োগ হয়, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকে।
মৌলভীবাজার-৪ এ এনসিপির প্রচারণা ও বাংলাদেশ-২.০ নেতাদের বক্তব্য আপাতদৃষ্টিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে। তবে অনুসন্ধান বলছে, স্থানীয় বাস্তবতা, অতীত অভিজ্ঞতা এবং আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এই ঘোষণার কার্যকারিতা সময়ই নির্ধারণ করবে।