মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, জামায়াতের আমীর সাহেব এখন বড় পেরেশানির মধ্যে পড়ে গেছেন।
তিনি ধরা খেয়ে গেছেন। তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে যেসব নারী চাকরি বা ব্যবসা করে—তাদের ‘বেশ্যা’ বলা হয়েছে। নাউজুবিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।
নাসের রহমান বলেন, পোস্টটি দুই মিনিট ছিল। দুই মিনিট পরে নামিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু দুই মিনিট অনেক লম্বা সময়। এই দুই মিনিটের মধ্যেই স্ক্রিনশট উঠে গেছে। এরপর ঘণ্টাখানেক পর আরেকটি পোস্ট দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁর আইডি হ্যাকড হয়েছে। অথচ সেটি একটি ভেরিফায়েড পেজ। ভেরিফায়েড পেজ এমনভাবে সুরক্ষিত থাকে, যেটা হ্যাক করার কোনো সুযোগই নেই। আর তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া যায় হ্যাকড হয়েছে, তাহলে সেটি ঠিক করতে অনেক সময় লাগে—এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টায় নয়।
এম নাসের রহমান বলেন, এটা প্রথমত কোনো হ্যাকডই হয়নি। এটা তিনি নিজেই মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের সকল কর্মজীবী নারী ও ব্যবসায়ী নারীকে ‘বেশ্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াতের আমীর বড় ভাইসাব একেবারে টুয়েন্টি টাইট ধরা খেয়ে গেছেন। এই বক্তব্যের কারণে শুধু কর্মজীবী নারীরাই নন, সারা দেশের নারীদের ভোট জামায়াতের বাক্স থেকে বাদ পড়ে গেছে। এগুলো সব আল্লাহর কুদরতি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যারা করে, তাদের চালচলন, কথা-বার্তা সব কিছুই ভিন্নধর্মী। জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনৈতিক দল পৃথিবীর আর কোথাও নেই—শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আছে। এরা ইসলামের নাম ব্যবহার করে, কিন্তু ইসলামী ধারণা তাদের মধ্যে নেই। আর সবকিছুই আছে। মাওলানা ভাসানী একবার মন্তব্য করেছিলেন—আল্লাহ বানিয়েছেন ইসলাম, আর শয়তান বানিয়েছে জামাতে ইসলাম।
নাসের রহমান বলেন, যারা দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইছে, তাদের এক সেকেন্ডের মধ্যেও মনে রাখবেন না—মন থেকে মুছে ফেলবেন। এরা ধর্মের নাম ব্যবহার করে দেশের অগ্রগতির বড় অংশ নারীসমাজকে ঘরে বন্দী রাখতে চায়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে জামায়াতিরা কতদিন ধরে মহিলাদের ঘরে ঘরে পাঠিয়ে বেহেশতের টিকিট দিয়েছে—কেউ কি সেই বেহেশতের টিকিট পেয়েছেন? কেউ পায়নি।
তিনি আরও বলেন, তাদের আরেক নেতা দাবি করেন—একজন মুসলমান মারা যাওয়ার পর নাকি চতুর্থ প্রশ্ন হবে, আপনি মরার আগে কোন দলকে ভোট দিয়েছেন। নাউজুবিল্লাহ। তিনি বলেন, ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা হলেও এমন বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার মাথা আউলাই গেছে।
নাসের রহমান বলেন, দেশের হক্কানি বুজুর্গানে দ্বীনরা বলেছেন—এই জামায়াতে ইসলামীকে যদি কেউ ভোট দেয়, তাহলে তারা দোজখগামী হবে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিগত সতের বছর ভোটের যে আমানত, সেটি ছিল না। হাসিনা তা তার শাড়ির গুটির মধ্যে বেঁধে রেখেছিল। এখন সেই আমানত আবার জনগণের কাছে ফিরে এসেছে। এই আমানত প্রয়োগ করা সাংবিধানিক কর্তব্য ও নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে উন্নয়নের মার্কা ধানের শীষে ভোট দেবেন। ওই দিন পার হলে রোজা রেখে ভোটকেন্দ্রে পাহারা দেবেন, যাতে ভোট চুরি না হয়। উন্নয়নের কথা আমাকে বলে দিতে হবে না—আমি দেখব।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২ নং মনুমুখ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তফা মিয়ার সভাপতিত্বে ও আব্দুর রহমানের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমেদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মুকিত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অদুদ আলম, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হেকিমসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যে দল কর্মজীবী নারীদের ‘বেশ্যা’ বলে, তাদের মন থেকে মুছে ফেলতে হবে”: নাসের রহমান
-
মোঃ আঃ রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় ০৭:১০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























