জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো আওয়ামী লীগকে আবারও নির্বাচনের মাঠে ফিরিয়ে আনার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি নির্বাচন নয়, এটি একটি গণভোট। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান রোধ করতে জনগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে রায় দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যারা ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দমন–পীড়ন চালিয়েছে, আজ তাদেরই পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।
শ্রীমঙ্গলের ভোট সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, আমি জানতে পেরেছি, শ্রীমঙ্গলের মানুষ ভোটের দিনটিকে উৎসবের মতো উদযাপন করে। সবাই একসঙ্গে নতুন জামাকাপড় পরে ভোট দিতে যান। এই সংস্কৃতি আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং সারা দেশের মানুষকে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহ দেয়।
তিনি বলেন, মৌলভীবাজার–৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত শাপলা প্রার্থীর পক্ষে ১১ দলীয় জোট শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা ঘণ্টায় ১০০ টাকা মজুরির দাবি করেছি। শিক্ষা শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ৬০ টাকা মজুরির দাবিও তুলেছি। নির্বাচিত হলে এই দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব এবং প্রয়োজনে এটিকে আন্দোলনে রূপ দেব।
বর্তমান মজুরি জীবনযাপনের জন্য অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে এনসিপি কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কৃষকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আমরা দেখছি একটি দল ক্রমেই আরও হিংস্র হয়ে উঠছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তাঁদের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো আবারও হামলা, মামলা ও সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এবার ১১ দল ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর মেনে নেওয়া হবে না।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ দলীয় জোট মাঠে থাকবে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো দলটিকে আবার নির্বাচনে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলে নাকি অন্যরাও নিষিদ্ধ হবে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, যদি কেউ খুন করে এবং তার বিচার হয়, তখন বলা হয়-আজ তাকে শাস্তি দিলে কাল আমাকেও দেওয়া হতে পারে-এটা কি যুক্তি হতে পারে? সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দিলে তার দায় এড়ানো যায় না। যে সন্ত্রাসীর পাশে দাঁড়ায়, তার অপরাধও সমান।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। যারা ফ্যাসিবাদকে সহায়তা করছে বা পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হবে।
সমাবেশের শেষাংশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গণভোট। ন্যায্য মজুরি, ন্যায্য অধিকার, ঘুষ ছাড়া চাকরি, ব্যাংক লুট ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি সবকিছুর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
মোঃ আঃ রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার 























