স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজী আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে চাকরিকালীন সময়জুড়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, দুদকের নথি এবং এলজিইডির বিভাগীয় কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণে এসব অভিযোগের বিষয় সামনে এসেছে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ফাসিস্ট হাসিনার পিএসসির সুপারিশে এলজিইডিতে যোগদানকারী কাজী আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন সিলেট অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করেন বলে সহকর্মীদের একাংশের অভিযোগ।
দুদকের একাধিক মামলা
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মরত থাকার সময় দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চারটি মামলা দায়ের করে বলে জানা গেছে।ক) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মকালীন সময়ে শুবলং জপজেলায় পানীয় জলের জন্য নির্মাণাধীন ডিপ টিউব ওয়েল না করে আত্মসাত করায় দুদক মামলা করে মামলা নং ০৩/২৩ তারিখ ০৯/০৩/২০২৪ সংশ্লিষ্ট সূত্রের খ) শুভলং এ কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাকা সিড়ি নির্মান কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করায় দুদকের মামলা নং ০৪/২৩ তারিখ ০৯/০৩/২৪ গ) পূর্ব এরাবনিট হারুল টিলা থেকে আহাদের বাড়ী নির্মান কাজ না করে টাকা আত্মসাত করায় দুদক মামলা নং ০৫/২৪ তারিখ ০৯/০৩/২৪ রাঙ্গামাটি স্পেশাল জজকোর্ট মামলা দেন দাবি এসব মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
বিভাগীয় শাস্তির নজির
এলজিইডির অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার ও জ্বালানি তেল আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।মামলা নং ১২/২০২৩ স্মারক নং ৫১৫ তারিখ ১২/০৬/২০২৩, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উচ্চতর বেতন স্কেল থেকে নামিয়ে নিম্ন স্কেলে শাস্তি দেওয়া হয়।
উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সিলেট সিটি এলাকায় পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অবসর-পরবর্তী নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, অবসর গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এলজিইডির CIBRR প্রকল্পে ‘পিসি গার্ডার এক্সপার্ট কনসাল্ট্যান্ট’ পদে নিয়োগ পান কাজী আব্দুস সামাদ। নিয়ম অনুযায়ী এই পদে ন্যূনতম সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদমর্যাদা প্রয়োজন ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে আরও অনিয়মের তথ্য উদঘাটিত হতে পারে।
এ বিষয়ে কাজী আব্দুস সামাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























