ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বরখাস্ত সহজে মিলবে বৈদেশিক মুদ্রা, বাড়বে বাণিজ্যে অর্থায়নের সুযোগ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ টাঙ্গাইলে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন পীরগঞ্জে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসাসেবা বদলগাছীতে ছাত্রলীগের ২ কর্মীকে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল মিয়ানমারের সঙ্গে ড্র শেষে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় বাংলাদেশ মলির ডেস্কেই আটকে রাজউকের ফাইল, অভিযোগের কেন্দ্রে দুই কর্মচারী

টাঙ্গাইলে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আরও চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুরে টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া ও আজাদ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সুজন, সানোয়ার হোসেন, সফিক ও ইমন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রাতর্ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ডিসেম্বর ফারুকের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া।

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আদালতে দ্বিতীয়বার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

এরপর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১৩ বছর পর সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বরখাস্ত

টাঙ্গাইলে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৪:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আরও চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুরে টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া ও আজাদ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সুজন, সানোয়ার হোসেন, সফিক ও ইমন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রাতর্ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ডিসেম্বর ফারুকের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া।

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আদালতে দ্বিতীয়বার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

এরপর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১৩ বছর পর সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।