ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাশকতায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখা দরকার: ইশরাক মিথ্যা অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত কবর থেকে তোলা হবে গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ এলিফ্যান্ট রোডে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান হাইকোর্টে সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বরখাস্ত সহজে মিলবে বৈদেশিক মুদ্রা, বাড়বে বাণিজ্যে অর্থায়নের সুযোগ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ

ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বরখাস্ত

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় ঢাকার সাবেক জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনের আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসাদুজ্জামানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান ঢাকা জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত হন। তিনি একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএতে যোগদান করেন।

পরে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একাডেমি ত্যাগ করেন আসাদুজ্জামান। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে তাকে কর্মস্থলে হাজির বা যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তারপরও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তিনি।

এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানোর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি তিনি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগ গুরুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন—এ মর্মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয় পিএসসি।

বিভাগীয় মামলার নথিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গুরুদণ্ড আরোপের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানকে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনীত পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাশকতায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখা দরকার: ইশরাক

ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বরখাস্ত

আপডেট সময় ০৬:০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় ঢাকার সাবেক জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনের আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসাদুজ্জামানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান ঢাকা জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত হন। তিনি একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএতে যোগদান করেন।

পরে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একাডেমি ত্যাগ করেন আসাদুজ্জামান। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে তাকে কর্মস্থলে হাজির বা যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তারপরও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তিনি।

এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানোর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি তিনি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগ গুরুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন—এ মর্মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয় পিএসসি।

বিভাগীয় মামলার নথিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গুরুদণ্ড আরোপের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানকে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনীত পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।