ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগেরহাটের রামপালে এসআরবির অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯ তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মরিয়মের মৃত্যু ঘিরে এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ছাত্রলীগের কোটায় চাকরি প্রাপ্ত আমুর ক্যাশিয়ার এলজিইডির প্রকৌশলী ইকবাল বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিসে শামস আরমান-হেলালকে ঘিরে ক্রয়, সরবরাহে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ মিঠাপুকুরে মেলার ৫০ হাজার টাকা ৫ মাসেও কোষাগারে জমা হয়নি, প্রশ্নের মুখে ইউএনও পারভেজ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি : শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির বড় অভিযান, ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক নাটোরে অ্যাম্বুলেন্স-ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ১

তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৩টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত পাঠদান খুঁড়িয়ে চলছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁকে। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাঁদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফলে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেখানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দায়িত্বরত কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, দাপ্তরিক কাজে অফিসে যাতায়াত করার কারণে প্রায়ই ক্লাস মিস হয় এবং অন্যান্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একই কাজ তাঁদের দ্বিগুণ করতে হয়। অথচ তাঁরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও বেতন পান সহকারী শিক্ষকের। সরকারের কাছে তাঁদের জোর দাবি, দ্রুত যেন প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হয়।

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক খান জানান, শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটের রামপালে এসআরবির অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় ০১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৩টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত পাঠদান খুঁড়িয়ে চলছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁকে। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাঁদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফলে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেখানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দায়িত্বরত কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, দাপ্তরিক কাজে অফিসে যাতায়াত করার কারণে প্রায়ই ক্লাস মিস হয় এবং অন্যান্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একই কাজ তাঁদের দ্বিগুণ করতে হয়। অথচ তাঁরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও বেতন পান সহকারী শিক্ষকের। সরকারের কাছে তাঁদের জোর দাবি, দ্রুত যেন প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হয়।

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক খান জানান, শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।