ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯ তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মরিয়মের মৃত্যু ঘিরে এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ছাত্রলীগের কোটায় চাকরি প্রাপ্ত আমুর ক্যাশিয়ার এলজিইডির প্রকৌশলী ইকবাল বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিসে শামস আরমান-হেলালকে ঘিরে ক্রয়, সরবরাহে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ মিঠাপুকুরে মেলার ৫০ হাজার টাকা ৫ মাসেও কোষাগারে জমা হয়নি, প্রশ্নের মুখে ইউএনও পারভেজ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি : শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির বড় অভিযান, ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক নাটোরে অ্যাম্বুলেন্স-ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ১ শিশু কলি হত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছাত্রলীগের কোটায় চাকরি প্রাপ্ত আমুর ক্যাশিয়ার এলজিইডির প্রকৌশলী ইকবাল বহাল তবিয়তে

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমুর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত সাবেক ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী এবং বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিতর্কের পরও তিনি এখনো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) বহাল রয়েছেন এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে ইকবাল কবির আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কোটায় এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি নেন। প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নেতৃত্বে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের একটি বলয় গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মজীবনের বড় একটি সময় তিনি ঝালকাঠি জেলার আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা প্রয়াত আমির হোসেন আমুর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ইকবাল কবির কোটি কোটি টাকা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন আমলার কাছে ধরনা দিয়ে কোনো বড় প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা ‘আমাদের মাতৃভূমি’কে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিগত সময়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় দুদকের গণশুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, কাজ না করে বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলাও হয়েছিল। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই অভিযোগ ও মামলাগুলো কার্যকরভাবে এগোয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এমনকি দুদকের ফাইলও অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গায়েব করে ফেলা হয়েছে বলে শোনা যায়। তবে এ দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগকারীদের মতে, এসব ঘটনার পরও ইকবাল কবির অপ্রতিরোধ্যভাবে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন এবং এখনো এলজিইডিতে বহাল রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমির হোসেন আমু ও তাঁর পিএস শাওনের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ইকবাল কবির এমন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে দিনকে রাত বানানোও তাঁর জন্য কঠিন ছিল না। এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীদের নির্দেশনা কিংবা বদলির আদেশও তিনি গুরুত্ব দিতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে আমির হোসেন আমুর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলির আদেশ বাতিল করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা আমুর পিএস শাওনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ না করেই বিল উত্তোলন করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইকবাল কবিরকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা থেকে রাজাপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে। এ-সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ছিল ৪৬০২.০০০০.০০১.৯৯.২৭১.১৮.৯৮০০। অভিযোগ রয়েছে, আমির হোসেন আমুর প্রভাব খাটিয়ে ওই বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে তিনি পুনরায় নলছিটি উপজেলায় বহাল থাকেন।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্য এবং নিম্নমানের কাজসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা হয়নি।

নিম্নমানের কাজের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে তাঁকে ঘেরাও করার ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি একটি বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে জনগণের রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করেন এবং পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেখান থেকে উদ্ধার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের সময় অতিরিক্ত কমিশন নেওয়া এবং নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এসব বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সর্বশেষ স্ট্যান্ড রিলিজ বা তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান চলমান ছিল কি না, সে বিষয়ে এলজিইডির সাধারণ কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ ও ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরালের মতো বিতর্কের মধ্যেও ইকবাল কবির এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে নানা গুঞ্জন চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডারবাজি, নিম্নমানের কাজ এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইকবাল কবির বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ থাকলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাঁকে শাস্তির আওতায় না এনে পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, মো. ইকবাল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলপাড়ার দিনমজুর কৃষক মো. রইছ উদ্দিন মোল্লার ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, একসময় তাঁদের পরিবারে নুন আনতে পানতা ফুরাত, অথচ চাকরিতে যোগদানের পর ইকবাল কবির অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কীভাবে তাঁর এই সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে, তা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

ইকবাল কবির ২০১১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। সাধারণ কর্মকর্তাদের দাবি, কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমির হোসেন আমুসহ একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যেখানেই তিনি কর্মরত ছিলেন, সেখানেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়া তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সাধারণ ঠিকাদাররা। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাধারণ ঠিকাদাররা মানববন্ধন ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কখনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ইকবাল কবিরের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল বলেও জানা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পরও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়ে তিনি আর্থিক সুবিধা নিতেন। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের পর ভুয়া বিল তুলে নির্দিষ্ট সমঝোতার মাধ্যমে ঠিকাদারদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‘আমাদের মাতৃভূমি’র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের ধীরগতি নিয়ে। এর প্রতিবাদে তাঁরা ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ঘেরাও করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ইকবাল কবির একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন এবং কয়েক ঘণ্টা সেখানে অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার হন।

এদিকে ইকবাল কবিরের দেশের বাড়িসহ ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং তাঁর নিজ জন্মস্থান ঝিনাইদহ সদরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দেশের বাইরে ও বিদেশেও তাঁর বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা ‘আমাদের মাতৃভূমি’কে জানিয়েছেন। আইনের দৃষ্টি এড়াতে এসব সম্পদের অধিকাংশ তাঁর স্ত্রী, সন্তান, শাশুড়ি, মা এবং অন্যান্য আত্মীয়ের নামে বা বেনামে কেনা হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

এত অভিযোগের পরও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইকবাল কবিরকে নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডিতে সমালোচনা চলছে বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের মতে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতি বা অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে—যেমন প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের কথিত ভিডিও—পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠার কথা। তাঁর পদোন্নতির জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্রের অভিযোগ রয়েছে।

ইকবাল কবিরের পদোন্নতিকে ঘিরে এলজিইডির যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবিরের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯

ছাত্রলীগের কোটায় চাকরি প্রাপ্ত আমুর ক্যাশিয়ার এলজিইডির প্রকৌশলী ইকবাল বহাল তবিয়তে

আপডেট সময় ০১:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমুর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত সাবেক ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী এবং বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিতর্কের পরও তিনি এখনো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) বহাল রয়েছেন এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে ইকবাল কবির আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কোটায় এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি নেন। প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নেতৃত্বে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের একটি বলয় গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মজীবনের বড় একটি সময় তিনি ঝালকাঠি জেলার আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা প্রয়াত আমির হোসেন আমুর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ইকবাল কবির কোটি কোটি টাকা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন আমলার কাছে ধরনা দিয়ে কোনো বড় প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা ‘আমাদের মাতৃভূমি’কে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিগত সময়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় দুদকের গণশুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, কাজ না করে বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলাও হয়েছিল। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই অভিযোগ ও মামলাগুলো কার্যকরভাবে এগোয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এমনকি দুদকের ফাইলও অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গায়েব করে ফেলা হয়েছে বলে শোনা যায়। তবে এ দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগকারীদের মতে, এসব ঘটনার পরও ইকবাল কবির অপ্রতিরোধ্যভাবে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন এবং এখনো এলজিইডিতে বহাল রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমির হোসেন আমু ও তাঁর পিএস শাওনের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ইকবাল কবির এমন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে দিনকে রাত বানানোও তাঁর জন্য কঠিন ছিল না। এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীদের নির্দেশনা কিংবা বদলির আদেশও তিনি গুরুত্ব দিতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে আমির হোসেন আমুর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলির আদেশ বাতিল করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা আমুর পিএস শাওনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ না করেই বিল উত্তোলন করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইকবাল কবিরকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা থেকে রাজাপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে। এ-সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ছিল ৪৬০২.০০০০.০০১.৯৯.২৭১.১৮.৯৮০০। অভিযোগ রয়েছে, আমির হোসেন আমুর প্রভাব খাটিয়ে ওই বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে তিনি পুনরায় নলছিটি উপজেলায় বহাল থাকেন।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্য এবং নিম্নমানের কাজসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা হয়নি।

নিম্নমানের কাজের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে তাঁকে ঘেরাও করার ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি একটি বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে জনগণের রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করেন এবং পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেখান থেকে উদ্ধার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের সময় অতিরিক্ত কমিশন নেওয়া এবং নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এসব বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সর্বশেষ স্ট্যান্ড রিলিজ বা তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান চলমান ছিল কি না, সে বিষয়ে এলজিইডির সাধারণ কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ ও ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরালের মতো বিতর্কের মধ্যেও ইকবাল কবির এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে নানা গুঞ্জন চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডারবাজি, নিম্নমানের কাজ এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইকবাল কবির বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ থাকলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাঁকে শাস্তির আওতায় না এনে পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, মো. ইকবাল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলপাড়ার দিনমজুর কৃষক মো. রইছ উদ্দিন মোল্লার ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, একসময় তাঁদের পরিবারে নুন আনতে পানতা ফুরাত, অথচ চাকরিতে যোগদানের পর ইকবাল কবির অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কীভাবে তাঁর এই সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে, তা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

ইকবাল কবির ২০১১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। সাধারণ কর্মকর্তাদের দাবি, কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমির হোসেন আমুসহ একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যেখানেই তিনি কর্মরত ছিলেন, সেখানেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়া তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সাধারণ ঠিকাদাররা। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাধারণ ঠিকাদাররা মানববন্ধন ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কখনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ইকবাল কবিরের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল বলেও জানা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পরও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়ে তিনি আর্থিক সুবিধা নিতেন। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের পর ভুয়া বিল তুলে নির্দিষ্ট সমঝোতার মাধ্যমে ঠিকাদারদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‘আমাদের মাতৃভূমি’র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের ধীরগতি নিয়ে। এর প্রতিবাদে তাঁরা ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ঘেরাও করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ইকবাল কবির একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন এবং কয়েক ঘণ্টা সেখানে অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার হন।

এদিকে ইকবাল কবিরের দেশের বাড়িসহ ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং তাঁর নিজ জন্মস্থান ঝিনাইদহ সদরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দেশের বাইরে ও বিদেশেও তাঁর বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা ‘আমাদের মাতৃভূমি’কে জানিয়েছেন। আইনের দৃষ্টি এড়াতে এসব সম্পদের অধিকাংশ তাঁর স্ত্রী, সন্তান, শাশুড়ি, মা এবং অন্যান্য আত্মীয়ের নামে বা বেনামে কেনা হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

এত অভিযোগের পরও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইকবাল কবিরকে নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডিতে সমালোচনা চলছে বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের মতে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতি বা অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে—যেমন প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের কথিত ভিডিও—পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠার কথা। তাঁর পদোন্নতির জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্রের অভিযোগ রয়েছে।

ইকবাল কবিরের পদোন্নতিকে ঘিরে এলজিইডির যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবিরের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।