ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

বিনামূল্যে নিরাপদ পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১২:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭০৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ সুপেয় পানি প্রাপ্তিকে ‘মৌলিক অধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬ পৃষ্ঠার এই লিখিত রায়টিতে স্বাক্ষর করার পর তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে জনস্বার্থে করা একটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের (২০২৫) ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন উচ্চ আদালত। ২০২০ সালে আদালত জানতে চেয়েছিলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি না এবং একে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবনের অধিকার’-এর অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আদালতের গুচ্ছ নির্দেশনা
রায়ে নিরাপদ পানি নিশ্চিতে সরকারকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১. পানির উৎস রক্ষা: দেশের সব পানির উৎস যাতে শুকিয়ে না যায় বা দূষিত হয়ে অনিরাপদ না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. এক বছরের মধ্যে ব্যবস্থা: আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, আদালত চত্বর, আইনজীবী সমিতি এবং উপকূলীয় ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাসহ সব পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে অথবা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে পাবলিক প্লেসগুলোতে বিনামূল্যে পানি সরবরাহে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তা জানিয়ে সরকারকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মামলাটি ‘চলমান’ হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ মামলায় আদালতের বন্ধু বা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে আইনি মতামত প্রদান করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হূমায়ুন কবির পল্লব।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

বিনামূল্যে নিরাপদ পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেট সময় ১২:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ সুপেয় পানি প্রাপ্তিকে ‘মৌলিক অধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬ পৃষ্ঠার এই লিখিত রায়টিতে স্বাক্ষর করার পর তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে জনস্বার্থে করা একটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের (২০২৫) ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন উচ্চ আদালত। ২০২০ সালে আদালত জানতে চেয়েছিলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি না এবং একে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবনের অধিকার’-এর অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আদালতের গুচ্ছ নির্দেশনা
রায়ে নিরাপদ পানি নিশ্চিতে সরকারকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১. পানির উৎস রক্ষা: দেশের সব পানির উৎস যাতে শুকিয়ে না যায় বা দূষিত হয়ে অনিরাপদ না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. এক বছরের মধ্যে ব্যবস্থা: আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, আদালত চত্বর, আইনজীবী সমিতি এবং উপকূলীয় ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাসহ সব পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে অথবা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে পাবলিক প্লেসগুলোতে বিনামূল্যে পানি সরবরাহে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তা জানিয়ে সরকারকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মামলাটি ‘চলমান’ হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ মামলায় আদালতের বন্ধু বা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে আইনি মতামত প্রদান করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হূমায়ুন কবির পল্লব।