ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

বাহরাইনে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ মনোহরগঞ্জের বাবলু

বাহরাইনের কর্মস্থলে গিয়ে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শামসুল আলম বাবলু। গত ২২ এপ্রিল মধ্যরাতের পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় তার পরিবার ও প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজের আট দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো সন্ধান। নিখোঁজ বাবলু বাহরাইনে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম এই সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর থেকে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সহকর্মী ও রুমমেটদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২২ এপ্রিল রাতের দিকে বাহরাইনের জল্লাক এলাকায় একটি ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর থেকেই বাবুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কাজের প্রয়োজনে তিনি সাধারণত মোবাইল ফোন সচল রাখতেন, কিন্তু সেই রাত থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর থেকেই তার সহকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এই নিখোঁজের ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে তার ব্যবহৃত গাড়িটি। সাধারণত ডেলিভারি কর্মীরা তাদের গাড়ি ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু ঘটনার পর থেকে বাবুলের ব্যবহৃত গাড়িটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

বাবলুর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বাহারাইনে অবস্থানরত তার বন্ধুরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাবলুর বাল্যবন্ধু মোঃ মুরাদ বাহরাইনের ইস্ট রিফা পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছেন। এছাড়াও মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, দূতাবাস থেকে যদি কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়া যায় এবং স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করে, তবেই হয়তো বাবলুর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে বাবলুর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামী নিখোঁজের পর থেকে তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন স্ত্রী। সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ মা। আত্মীয় স্বজনরা রয়েছেন গভীর উৎকণ্ঠায়। তাদের আশা বাবলু সুস্থভাবে ফিরে আসবে। প্রিয়জনকে ফিরে পেতে এখন প্রহর গুনছে তার পরিবার।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

বাহরাইনে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ মনোহরগঞ্জের বাবলু

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাহরাইনের কর্মস্থলে গিয়ে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শামসুল আলম বাবলু। গত ২২ এপ্রিল মধ্যরাতের পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় তার পরিবার ও প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজের আট দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো সন্ধান। নিখোঁজ বাবলু বাহরাইনে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম এই সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর থেকে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সহকর্মী ও রুমমেটদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২২ এপ্রিল রাতের দিকে বাহরাইনের জল্লাক এলাকায় একটি ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর থেকেই বাবুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কাজের প্রয়োজনে তিনি সাধারণত মোবাইল ফোন সচল রাখতেন, কিন্তু সেই রাত থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর থেকেই তার সহকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এই নিখোঁজের ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে তার ব্যবহৃত গাড়িটি। সাধারণত ডেলিভারি কর্মীরা তাদের গাড়ি ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু ঘটনার পর থেকে বাবুলের ব্যবহৃত গাড়িটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

বাবলুর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বাহারাইনে অবস্থানরত তার বন্ধুরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাবলুর বাল্যবন্ধু মোঃ মুরাদ বাহরাইনের ইস্ট রিফা পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছেন। এছাড়াও মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, দূতাবাস থেকে যদি কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়া যায় এবং স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করে, তবেই হয়তো বাবলুর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে বাবলুর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামী নিখোঁজের পর থেকে তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন স্ত্রী। সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ মা। আত্মীয় স্বজনরা রয়েছেন গভীর উৎকণ্ঠায়। তাদের আশা বাবলু সুস্থভাবে ফিরে আসবে। প্রিয়জনকে ফিরে পেতে এখন প্রহর গুনছে তার পরিবার।