বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ সুপেয় পানি প্রাপ্তিকে ‘মৌলিক অধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬ পৃষ্ঠার এই লিখিত রায়টিতে স্বাক্ষর করার পর তা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে জনস্বার্থে করা একটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের (২০২৫) ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন উচ্চ আদালত। ২০২০ সালে আদালত জানতে চেয়েছিলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি না এবং একে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবনের অধিকার’-এর অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আদালতের গুচ্ছ নির্দেশনা
রায়ে নিরাপদ পানি নিশ্চিতে সরকারকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১. পানির উৎস রক্ষা: দেশের সব পানির উৎস যাতে শুকিয়ে না যায় বা দূষিত হয়ে অনিরাপদ না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. এক বছরের মধ্যে ব্যবস্থা: আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, আদালত চত্বর, আইনজীবী সমিতি এবং উপকূলীয় ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাসহ সব পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে অথবা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে পাবলিক প্লেসগুলোতে বিনামূল্যে পানি সরবরাহে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তা জানিয়ে সরকারকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মামলাটি ‘চলমান’ হিসেবে রাখা হয়েছে।
এ মামলায় আদালতের বন্ধু বা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে আইনি মতামত প্রদান করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হূমায়ুন কবির পল্লব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























