ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে মামলা নারকোটিক্সের সার্কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা জ্বালানি সংকট দূর করতে নেওয়া হচ্ছে তিন পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

শিশুর বিকাশে প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশে সঠিক সহায়ক পরিবেশ এবং ব্যাপক সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই গুরুদায়িত্ব সরকারের একার পক্ষে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়; বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই-এর মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে আয়োজিত ‌‌‘অ্যাক্ট ফর আর্লি ইয়ার্স: সেফগার্ডিং চাইল্ডহুড অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেট’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। বৈঠকে শিশুদের প্রারম্ভিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা, শিক্ষাদানের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচিত হয়।

বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ শিশু এবং ৫১ শতাংশ নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে কোনো জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে মা, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। সে লক্ষ্যেই ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা জাল তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটেই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেই রয়েছে ১ লাখ ৪৩ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা দেশের শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ শিশু জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই বিপর্যয় সামলাতে জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সকল খাতকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুবসহ জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, সেভ দ্য চিলড্রেন, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ

শিশুর বিকাশে প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশে সঠিক সহায়ক পরিবেশ এবং ব্যাপক সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই গুরুদায়িত্ব সরকারের একার পক্ষে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়; বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই-এর মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে আয়োজিত ‌‌‘অ্যাক্ট ফর আর্লি ইয়ার্স: সেফগার্ডিং চাইল্ডহুড অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেট’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। বৈঠকে শিশুদের প্রারম্ভিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা, শিক্ষাদানের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচিত হয়।

বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ শিশু এবং ৫১ শতাংশ নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে কোনো জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে মা, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। সে লক্ষ্যেই ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা জাল তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটেই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেই রয়েছে ১ লাখ ৪৩ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা দেশের শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ শিশু জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই বিপর্যয় সামলাতে জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সকল খাতকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুবসহ জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, সেভ দ্য চিলড্রেন, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন।