ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিশুর বিকাশে প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে একমত মিঠাপুকুরে নোংরা চত্বর থেকে রাজস্বের হাট: উন্নয়ন, নাকি বিতর্ক? ৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লা বারে মানববন্ধন ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে থমথমে বেরোবি, নিরাপত্তা জোরদার

মিঠাপুকুরে নোংরা চত্বর থেকে রাজস্বের হাট: উন্নয়ন, নাকি বিতর্ক?

  • শহীদুল ইসলাম
  • আপডেট সময় ০৭:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি অংশ, যা একসময় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল, বর্তমানে ছোট ছোট দোকান স্থাপনের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে। এ উদ্যোগকে ঘিরে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্থানটি আগে আবর্জনা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বিব্রতকর ছিল। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে কয়েকটি ছোট দোকান নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন ও অনুমোদনের পর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বর্তমানে এসব দোকান থেকে ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হচ্ছে বলেও জানা যায়।
তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়ম ও অবৈধতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
যদি প্রকল্পটি প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তবে এটি একদিকে পরিবেশ উন্নয়ন, অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, যদি কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বা অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোকান বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সভার কার্যবিবরণী (রেজুলেশন), ইজারা সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমার প্রমাণ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্ন ও সংশয় অনেকাংশেই দূর হতে পারে।
উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে গৃহীত যেকোনো উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তথ্যের উন্মুক্ততাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে একদিকে যেমন জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কেও সবার কাছে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মিঠাপুকুরে নোংরা চত্বর থেকে রাজস্বের হাট: উন্নয়ন, নাকি বিতর্ক?

আপডেট সময় ০৭:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি অংশ, যা একসময় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল, বর্তমানে ছোট ছোট দোকান স্থাপনের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে। এ উদ্যোগকে ঘিরে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্থানটি আগে আবর্জনা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বিব্রতকর ছিল। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে কয়েকটি ছোট দোকান নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন ও অনুমোদনের পর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বর্তমানে এসব দোকান থেকে ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হচ্ছে বলেও জানা যায়।
তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়ম ও অবৈধতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
যদি প্রকল্পটি প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তবে এটি একদিকে পরিবেশ উন্নয়ন, অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, যদি কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বা অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোকান বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সভার কার্যবিবরণী (রেজুলেশন), ইজারা সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমার প্রমাণ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্ন ও সংশয় অনেকাংশেই দূর হতে পারে।
উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে গৃহীত যেকোনো উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তথ্যের উন্মুক্ততাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে একদিকে যেমন জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কেও সবার কাছে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।