আমি চির বিদ্রোহী বীর – বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির, এই ঘোষণা ছিল কাজী নজরুল ইসলামের। তিনি শুধু একজন কবি ছিলেন না, ছিলেন আমাদের জাতীয় আত্মার প্রতীক, একজন স্বাপ্নিক বিদ্রোহী। তাঁর কলমে ছিল সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের দীপ্ত সুর। সেই নজরুল কি আজকের বাংলাদেশকে দেখে হাসবেন, না কাঁদবেন – এই প্রশ্ন নিয়েই আমাদের এই প্রবন্ধভিত্তিক ডকুমেন্টারি।
কাজী নজরুল ইসলাম এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান হবে, মোরা এক বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান” – এই লাইনটি কেবল কবিতা নয়, ছিল জাতির প্রতি তাঁর আহ্বান।
নারীর মুক্তি ও মর্যাদা থাকবে, বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর” – নারীর ক্ষমতায়নকে নজরুল হৃদয়ে ধারণ করতেন।
সাম্য ও শোষণমুক্ত সমাজ হবে, তিনি বলেছিলেন, “আমি সেই দিন চাই, যেদিন ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু, জাতি-ধর্মে বিভেদ থাকবে না। এই ভাবনাগুলো নিয়ে নজরুল চেয়েছিলেন এক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, প্রগতিশীল রাষ্ট্র।
১. ধর্মীয় সহনশীলতা: বাংলাদেশে নানা সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নজরুলের স্বপ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদিও রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত, তবু সমাজে অনেক সময় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যায়।
২. নারীর অবস্থান: নারীরা আজ শিক্ষা, রাজনীতি, প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বাহিনীতেও পদচারণা করছে। এটা নিঃসন্দেহে নজরুলের স্বপ্নের অংশ। কিন্তু এখনো নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রয়ে গেছে।
৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ: দেশ উন্নয়নের পথে এগোলেও ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়েছে। নজরুল যেই শোষণহীন সমাজ চেয়েছিলেন, তা এখনও অর্জিত হয়নি।
৪. সাহিত্য-সংস্কৃতির জায়গা: নজরুল চেয়েছিলেন মুক্ত চিন্তার সাহিত্যচর্চা। যদিও বাংলাদেশে সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড আছে, তবে অনেক সময় তা রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।
আজ যখন জাতি বিভাজনের মুখে, তখন নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা আবার জাগরুক হওয়া জরুরি। আজ তাঁর লেখা “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান” – এই বাণী আমাদের নতুন করে ভাবায়।
বাংলাদেশ আজ স্বাধীন, উন্নয়নশীল এবং বিশ্বদরবারে পরিচিত। তবু নজরুলের চোখ দিয়ে দেখলে অনেক অপূর্ণতা চোখে পড়ে। তাঁর স্বপ্নের সাম্যবাদী, মানবিক, শোষণহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা এখনও অনেকখানি বাকি। এই ডকুমেন্টারি বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে – নজরুল কেবল অতীতের কবি নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও দিকনির্দেশক।
উদ্বোধনী: নজরুলের “বিদ্রোহী” কবিতার আবৃত্তি ও তাঁর ছবির ধীর দৃশ্য। সাক্ষাৎকার: নজরুল গবেষক, নারীনেত্রী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চিত্রায়ণ: বাংলাদেশের গ্রাম-শহরের বৈপরীত্য, নারীর অগ্রগতি, ধর্মীয় উৎসবের সহাবস্থান ও সংঘাতের দৃশ্য। শেষাংশে: “চল চল চল” গানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দৃশ্য।
শহীদুল ইসলাম রংপুর ব্যুরো 

























