বেতন পান মাত্র ৯ হাজার ৩০০ টাকা স্কেলে। বর্তমান বাজারে এই সামান্য টাকায় যেখানে সংসার চালানোই দায়, সেখানে তার চলাই রাজকীয় স্টাইলে। বিলাসবহুল জীবনযাপন, কোটি টাকার বহুতল বাড়ি আর ধরাকে সরা জ্ঞান করা চালচলন—সব মিলিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর একজন অফিস সহকারী হয়েও তার দাপট প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার চেয়েও বেশি। তিনি মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী সঞ্জিত দত্ত।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের ছত্রছায়ায় গিয়ে অসীম ক্ষমতার অধিকারী বনে যান এই সঞ্জিত। আর সেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রার এবং জেলার চার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের রীতিমতো পকেটে পুরে রেখেছেন তিনি। তার ইচ্ছার বাইরে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে পাতার একটি নড়াও অসম্ভব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাব খাটিয়ে পুরো মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রি অফিসকে এক প্রকার জিম্মি করে ফেলেছিলেন সঞ্জিত। দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ে প্রতি মাসে তার অবৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ কালো টাকা দিয়ে মাগুরা শহরে তিনি গড়ে তুলেছেন আলিশান বহুতল বাড়ি।
তার ক্ষমতার খুঁটির জোর এতটাই গভীরে যে, স্বয়ং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও তাকে অন্য জেলায় বদলি করতে পারেননি বা করার সাহস পাননি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থেকে তার ‘পকেট সাম্রাজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাগুরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত আছেন অফিস সহকারী মিহির সেন এবং ২য় মোহরার অঞ্জলী রানী দত্ত। নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ১৪ মে তাদের বদলি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সঞ্জিত তার অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাদের বদলি আটকে দিয়ে মাগুরা সদর অফিসেই রেখে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই বদলি বাণিজ্য এবং কার্যালয়গুলো ধরে রাখার পেছনে সঞ্জিতের বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের ‘কারিশমা’ রয়েছে। এমনকি বর্তমান প্রেক্ষাপটেও তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অর্থায়ন করে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
সঞ্জিত দত্তের এই লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এর আগেও একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য এক জাদুবলে পার পেয়ে গেছেন তিনি। বর্তমানেও মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে তার কথাই শেষ কথা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এইসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পিয়ান সন্জিত ও মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর কাছে পুরো জেলা রেজিস্ট্রি বিভাগ জিম্মি থাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে। মাগুরা জেলাবাসীর মনে এখন তিনটি প্রধান প্রশ্ন:
ফ্যাসিবাদের দোসর অফিস সহকারী সঞ্জিত দত্ত আর কতদিন একই কর্মস্থলে জেঁকে থাকবেন?
একজন সামান্য অফিস সহকারীর বিলাসবহুল বাড়ি ও রাজকীয় জীবনযাপনের অর্থের উৎস কী?
আর কতদিন তার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকবে মাগুরার সাধারণ মানুষ ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো?
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমান প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বিশেষ প্রতিনিধি 


















