ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুলের দাপটে জিম্মি ব্যবসায়ীরা সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বিআরটিএ রাজশাহী কার্যালয়ে এডি শাহজাহানের দালাল সিন্ডিকেটের দাপট ফের গুরুত্বপূর্ণ পদে ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান জ্যাক স্প্যারোর গল্পের শেষটা সুন্দর করতে চান জনি ডেপ নারী ক্রিকেটারদের অভিযোগ শুনবে বিসিবির স্বাধীন কমিটি পার্বতীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হচ্ছেন আব্দুল এল সায়েদ সিভিল এভিয়েশনের আমিরের ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, নেপথ্যে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান
প্রবাসীদের লাগেজ কেটে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

সিভিল এভিয়েশনের আমিরের ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, নেপথ্যে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি এবং স্বর্ণ চোরাচালানসহ প্রবাসীদের লাগেজ কাটার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ওপরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুর মহানগরীর শহীদ বরকত সরণি, চান্দনা এলাকাতেই রয়েছে ১০০ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ। আমির হোসেন নিজেকে বিমানবন্দর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসভবনে বসবাস করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর শহীদ বরকত সরণি, চান্দনা এলাকার গাজীপুর মহানগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মসজিদুল আকসা-সংলগ্ন এলাকায় তার প্রায় ৬ থেকে ৭ বিঘা জমি রয়েছে।

এর মধ্যে বহুতল ভবন ও ১ বিঘা থেকে দেড় বিঘার ওপর সেমিপাকা টিনশেড ৭ থেকে ৮টি বাড়ি রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে স্বপ্ন স্বাক্ষর নামের ৭ তলা ভবন এবং প্রিয়তা নামের সাড়ে ৬ তলা ভবনসহ একাধিক বহুতল আবাসিক স্থাপনা।

২০২০ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকায় বড় একটি খালি প্লট ক্রয় করেন। এ ছাড়া চান্দনা এলাকায় ৭-৮টি দামি প্লট ও টিনশেড বাড়ি রয়েছে। যাহা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ভাড়া পান। এই সম্পত্তিগুলো দেখভালের জন্য সবুজসহ ৩-৪ জন কেয়ারটেকার নিয়োজিত রয়েছেন।

উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে ৭ তলা ফ্ল্যাটবাড়িসহ আরও ৩-৪টি টিনশেড বাড়ি (যা আমিরের চাচা মনোয়ার দেখাশোনা করেন)। তিনিও বিমানবন্দরে চাকরি করতেন। তারও উত্তরায় বহুতল ভবন রয়েছে। আমিরের খিলক্ষেতেও ৩-৪টি বাড়ি রয়েছে (যা তার ভাগনে ছাইয়েদের তত্ত্বাবধানে)।

ছাইয়েদের সঙ্গে আমিরের দ্বন্দ্ব হলে সে চট্টগ্রামে বদলি হয়। পাশাপাশি আমিরের ব্যক্তিগত একাধিক দামি গাড়িও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে র‍্যাব এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে আটক করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ছাড়া পান।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের দপ্তরে জমা হলে তা জামালপুরের স্থায়ী বাসিন্দা দুদকের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই আমির হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে গেছেন।

পাশাপাশি বিমানবন্দরে আত্মীয়স্বজন ও ভাগনে ছাইয়েদকে, আনোয়ারকে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, স্বর্ণ চোরাচালান ও প্রবাসীদের কষ্টের ধন লুটের একটি বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন আমির।

এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ পথে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও মূল্যবান মালামাল লাগেজ কেটে চুরি করে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ ও গাড়ি-বাড়ি। আমিরের জীবনযাপন ও সম্পদের পাহাড় দেখে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আমির হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার জমি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত এক দালাল নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন যে আমিরের সব সম্পত্তি তারাই বিক্রি করেছেন।

এরপর প্রতিবেদক যখন প্রশ্ন করেন, জমিতে বহুতল ভবন করার টাকাও কি আপনারা দিয়েছেন? তখন ওই ব্যক্তি প্রতিবেদককে তুলে নেওয়া এবং মারধর করে হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। এসব হুমকির পরও চান্দনায় আমিরের ও তার পোষা সন্ত্রাসী ব্যক্তির অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুলের দাপটে জিম্মি ব্যবসায়ীরা

প্রবাসীদের লাগেজ কেটে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

সিভিল এভিয়েশনের আমিরের ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, নেপথ্যে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি এবং স্বর্ণ চোরাচালানসহ প্রবাসীদের লাগেজ কাটার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ওপরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুর মহানগরীর শহীদ বরকত সরণি, চান্দনা এলাকাতেই রয়েছে ১০০ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ। আমির হোসেন নিজেকে বিমানবন্দর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসভবনে বসবাস করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর শহীদ বরকত সরণি, চান্দনা এলাকার গাজীপুর মহানগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মসজিদুল আকসা-সংলগ্ন এলাকায় তার প্রায় ৬ থেকে ৭ বিঘা জমি রয়েছে।

এর মধ্যে বহুতল ভবন ও ১ বিঘা থেকে দেড় বিঘার ওপর সেমিপাকা টিনশেড ৭ থেকে ৮টি বাড়ি রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে স্বপ্ন স্বাক্ষর নামের ৭ তলা ভবন এবং প্রিয়তা নামের সাড়ে ৬ তলা ভবনসহ একাধিক বহুতল আবাসিক স্থাপনা।

২০২০ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকায় বড় একটি খালি প্লট ক্রয় করেন। এ ছাড়া চান্দনা এলাকায় ৭-৮টি দামি প্লট ও টিনশেড বাড়ি রয়েছে। যাহা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ভাড়া পান। এই সম্পত্তিগুলো দেখভালের জন্য সবুজসহ ৩-৪ জন কেয়ারটেকার নিয়োজিত রয়েছেন।

উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে ৭ তলা ফ্ল্যাটবাড়িসহ আরও ৩-৪টি টিনশেড বাড়ি (যা আমিরের চাচা মনোয়ার দেখাশোনা করেন)। তিনিও বিমানবন্দরে চাকরি করতেন। তারও উত্তরায় বহুতল ভবন রয়েছে। আমিরের খিলক্ষেতেও ৩-৪টি বাড়ি রয়েছে (যা তার ভাগনে ছাইয়েদের তত্ত্বাবধানে)।

ছাইয়েদের সঙ্গে আমিরের দ্বন্দ্ব হলে সে চট্টগ্রামে বদলি হয়। পাশাপাশি আমিরের ব্যক্তিগত একাধিক দামি গাড়িও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে র‍্যাব এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে আটক করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ছাড়া পান।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের দপ্তরে জমা হলে তা জামালপুরের স্থায়ী বাসিন্দা দুদকের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই আমির হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে গেছেন।

পাশাপাশি বিমানবন্দরে আত্মীয়স্বজন ও ভাগনে ছাইয়েদকে, আনোয়ারকে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, স্বর্ণ চোরাচালান ও প্রবাসীদের কষ্টের ধন লুটের একটি বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন আমির।

এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ পথে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও মূল্যবান মালামাল লাগেজ কেটে চুরি করে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ ও গাড়ি-বাড়ি। আমিরের জীবনযাপন ও সম্পদের পাহাড় দেখে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আমির হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার জমি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত এক দালাল নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন যে আমিরের সব সম্পত্তি তারাই বিক্রি করেছেন।

এরপর প্রতিবেদক যখন প্রশ্ন করেন, জমিতে বহুতল ভবন করার টাকাও কি আপনারা দিয়েছেন? তখন ওই ব্যক্তি প্রতিবেদককে তুলে নেওয়া এবং মারধর করে হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। এসব হুমকির পরও চান্দনায় আমিরের ও তার পোষা সন্ত্রাসী ব্যক্তির অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।