ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ বড়লেখায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিসচার উদ্যোগে শিক্ষার্থী সমাবেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড অন্যের হাত ধরে উধাও স্ত্রী, প্রবাসী বললেন-কাবাঘরে গিয়ে বিচার দিবো মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা এবার ওএসডি রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে বাস উল্টে হেলপার নিহত, আহত ২০ চুক্তিভিত্তিক সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত রাস্তা-ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
২য় পর্ব

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এসি ওমর কাউসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ, ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাস ও আনস্টাফিং কার্যক্রম ঘিরে সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর কাউসার এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়, ফাইল আটকে রাখা ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি, এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও কাস্টম হাউসের কমিশনার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ জানিয়ে স্বাধীন তদন্তসহ তিন দফা দাবি তুলেছেন। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা, কাস্টম হাউসের কমিশনার কিংবা এনবিআরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে নেই। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

খসড়ায় উল্লিখিত পূর্ববর্তী সংবাদসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেট থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের সময় গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরীক্ষা করার পরও ফাইল অনুমতির জন্য সহকারী কমিশনার ওমর কাউসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস ও এসি ওমর কাউসারের মাধ্যমে ফাইল আটকে রাখা হয়, পরদিন পুনরায় পরীক্ষার কথা বলা হয় এবং সারা দিন বসিয়ে রেখে রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে কাজ স্থগিত করা হয়। তাঁদের দাবি, এটি নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রেখে ডেমারেজ চার্জ বাড়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ে বাধ্য করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ভাষ্য, প্রতিবাদ বা সংবাদ প্রকাশের পর হয়রানি কমেনি, বরং বেড়েছে। কোন গেট থেকে কত টাকা কার কাছে গেছে বা আদায়ের কোনো প্রমাণ খসড়ায় নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কাস্টমস কমিশনার বা এনবিআর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। সাধারণ কোনো ঘটনায় শোকজ বা বদলি করা হলেও, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের স্বপদে রাখা হয়েছে।’

ব্যবসায়ী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে উচ্চপর্যায়ের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় আছে কি না। এটি তাঁদের দাবি ও সন্দেহ; এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযুক্ত ওমর কাউসার ও সুমন কান্তি বিশ্বাস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং এনবিআরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ী নেতা বা এজেন্টদের কেউ নাম উল্লেখ করে কথা বলেননি।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তিনটি দাবি তুলেছেন। প্রথমত, এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দুই কর্মকর্তাকে স্পর্শকাতর দায়িত্ব থেকে অপসারণ বা সাময়িক বরখাস্ত। তৃতীয়ত, অনিয়মের পেছনে কমিশনার বা অন্য কোনো সিনিয়র কর্মকর্তার যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য এর মাধ্যমে খালাস হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে এই খালাস-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পণ্য আটকে থাকলে ডেমারেজ চার্জ বাড়ে, যা ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ায়। তবে আটকে থাকা ফাইলের সংখ্যা, ডেমারেজের পরিমাণ বা আগের অভিযোগের নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান খসড়ায় নেই। এনবিআর বা দুদকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তাও জানা যায়নি। আদালতে বা তদন্তে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পণ্য খালাসে বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ খাতে প্রভাব পড়তে পারে এবং কাস্টম হাউসের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এনবিআর বা কাস্টম হাউস কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্য, লিখিত প্রমাণ ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। বর্তমানে অভিযোগগুলো অপ্রমাণিত এবং অভিযুক্ত দুজন স্বপদে বহাল আছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ

২য় পর্ব

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ১০:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এসি ওমর কাউসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ, ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাস ও আনস্টাফিং কার্যক্রম ঘিরে সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর কাউসার এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়, ফাইল আটকে রাখা ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি, এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও কাস্টম হাউসের কমিশনার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ জানিয়ে স্বাধীন তদন্তসহ তিন দফা দাবি তুলেছেন। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা, কাস্টম হাউসের কমিশনার কিংবা এনবিআরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে নেই। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

খসড়ায় উল্লিখিত পূর্ববর্তী সংবাদসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেট থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের সময় গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরীক্ষা করার পরও ফাইল অনুমতির জন্য সহকারী কমিশনার ওমর কাউসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস ও এসি ওমর কাউসারের মাধ্যমে ফাইল আটকে রাখা হয়, পরদিন পুনরায় পরীক্ষার কথা বলা হয় এবং সারা দিন বসিয়ে রেখে রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে কাজ স্থগিত করা হয়। তাঁদের দাবি, এটি নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রেখে ডেমারেজ চার্জ বাড়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ে বাধ্য করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ভাষ্য, প্রতিবাদ বা সংবাদ প্রকাশের পর হয়রানি কমেনি, বরং বেড়েছে। কোন গেট থেকে কত টাকা কার কাছে গেছে বা আদায়ের কোনো প্রমাণ খসড়ায় নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কাস্টমস কমিশনার বা এনবিআর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। সাধারণ কোনো ঘটনায় শোকজ বা বদলি করা হলেও, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের স্বপদে রাখা হয়েছে।’

ব্যবসায়ী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে উচ্চপর্যায়ের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় আছে কি না। এটি তাঁদের দাবি ও সন্দেহ; এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযুক্ত ওমর কাউসার ও সুমন কান্তি বিশ্বাস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং এনবিআরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ী নেতা বা এজেন্টদের কেউ নাম উল্লেখ করে কথা বলেননি।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তিনটি দাবি তুলেছেন। প্রথমত, এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দুই কর্মকর্তাকে স্পর্শকাতর দায়িত্ব থেকে অপসারণ বা সাময়িক বরখাস্ত। তৃতীয়ত, অনিয়মের পেছনে কমিশনার বা অন্য কোনো সিনিয়র কর্মকর্তার যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য এর মাধ্যমে খালাস হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে এই খালাস-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পণ্য আটকে থাকলে ডেমারেজ চার্জ বাড়ে, যা ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ায়। তবে আটকে থাকা ফাইলের সংখ্যা, ডেমারেজের পরিমাণ বা আগের অভিযোগের নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান খসড়ায় নেই। এনবিআর বা দুদকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তাও জানা যায়নি। আদালতে বা তদন্তে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পণ্য খালাসে বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ খাতে প্রভাব পড়তে পারে এবং কাস্টম হাউসের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এনবিআর বা কাস্টম হাউস কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্য, লিখিত প্রমাণ ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। বর্তমানে অভিযোগগুলো অপ্রমাণিত এবং অভিযুক্ত দুজন স্বপদে বহাল আছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।