ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসোয়ারা না দিলে বদলি: ডিসি আমিরুলের বিরুদ্ধে পুলিশের ভেতরেই ক্ষোভ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর আমতলীর গাজীপুরে প্রধান শিক্ষক শাহীন মাহমুদের বিরুদ্ধে ২৬ দফা দুর্নীতির অভিযোগ বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হুমায়ুন কবীর এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ৯ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে, কমেছে ৫টির গণপূর্তের বিতর্কিত পদায়ন ও অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ দাপ্তরিক তদন্তের দাবি রাউজানে গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবরের অনুসারীদের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে দুই বছরে ৩৫ খুন মানিক পশারীর মৃত্যু ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন শেখ হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

শেখ হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ নামে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার তৃতীয় আসামি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যানও।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দিতে প্রভাব খাটান বিএবির তৎকালীন সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার। বিএবির নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও বিবিধ আলোচনায় তা উত্থাপন করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই সিদ্ধান্তের পর ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার পরিমাণ উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর তহবিল ব্যয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তবে ওই নির্দেশনায় ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই বলে দাবি করেছে দুদক।

দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ ঠিকানায় কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম পরিচালিত না হলেও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বিএবির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার দায়িত্বে থাকাকালে নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি উত্থাপন করে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় এমন অনুদানের বিধান না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দুদক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসোয়ারা না দিলে বদলি: ডিসি আমিরুলের বিরুদ্ধে পুলিশের ভেতরেই ক্ষোভ

শেখ হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি

আপডেট সময় ০৩:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ নামে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার তৃতীয় আসামি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যানও।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দিতে প্রভাব খাটান বিএবির তৎকালীন সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার। বিএবির নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও বিবিধ আলোচনায় তা উত্থাপন করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই সিদ্ধান্তের পর ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার পরিমাণ উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর তহবিল ব্যয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তবে ওই নির্দেশনায় ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই বলে দাবি করেছে দুদক।

দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ ঠিকানায় কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম পরিচালিত না হলেও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বিএবির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার দায়িত্বে থাকাকালে নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি উত্থাপন করে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় এমন অনুদানের বিধান না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দুদক।