ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদনে মিলল যেসব তথ্য নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে চাপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন, ঠাঁই হলো দাদার কবরের পাশে জাপান সফর শেষে রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে ধীরগতি, দুই মাসের সময় বেঁধে দিলেন প্রতিমন্ত্রী সাভারে আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড দৌলতখানে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ইস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ২

চৌদ্দগ্রামে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ, ম্যানেজার সরওয়ার আলমের শাস্তি ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম শাখায় গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চেক নগদায়ন এবং অনিয়ম করে ঋণের অর্থ উত্তোলনসহ মোট ১৯টি গুরুতর অভিযোগের মধ্যে ১৭টিই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকার আর্থিক তসরুপের তথ্য মিললেও অভিযুক্ত ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কেবল দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের মতো নামমাত্র লঘুদণ্ড। শাস্তি শিথিল হলেও ভুক্তভোগী শত শত সাধারণ গ্রাহক এখনো তাঁদের আত্মসাৎ হওয়া আমানতের টাকা ফেরত পাননি। উল্টো পুরোনো অপরাধের রেশ কাটতে না কাটতেই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে আমানত আত্মসাতের একগুচ্ছ অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযুক্ত সরওয়ার আলম তালুকদারের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তার অপকর্মের প্রমাণিত চিত্র, নমনীয় শাস্তির মাত্রা এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকিং খাতে ও স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রমাণিত অপরাধ ও আত্মসাতের খতিয়ান:

ব্যাংক সূত্র ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, সরওয়ার আলম তালুকদার ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৯ জুন পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় গ্রাহকের আমানত লুটপাট, জামানতের চেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি, ভুয়া ঋণের নামে টাকা উত্তোলন এবং স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ম ভেঙে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে জানা যায়, ২০২১ সালের জুনে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সরওয়ার আলম তালুকদার এবং তাঁর দুই সহযোগী কর্মকর্তা আবদুল জলিল ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাতের সত্যতা প্রমাণিত হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করে বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি করে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।

প্রমাণিত ১৭টি অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:

  • কর্মকর্তার চেক জালিয়াতি: অধীনস্থ এক কর্মকর্তার চেক থেকে সই জাল করে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ টাকা উত্তোলন।
  • গ্রাহকের আমানত ও এসডিপিএস লুট: আমানতকারীদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করে ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা, এসডিপিএস রসিদ বদলে ২৫ হাজার টাকা এবং এসডিপিএসের স্থিতি পরিশোধের ২ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ টাকা আত্মসাৎ।
  • ভুয়া ঋণ ও স্বজনপ্রীতি: ভুয়া ঋণের নামে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নিজের স্ত্রী রুনা লায়লার নামে নীতিমালা ভেঙে ৬৩ হাজার ৬৩০ টাকা অতিরিক্ত ঋণ প্রদান এবং প্রধান কার্যালয় থেকে নামঞ্জুর করা উদ্যোক্তাকে নিয়ম ভেঙে ১ লাখ টাকা বিতরণ।
  • নগদ জমা জালিয়াতি: জমা ছাড়াই জমা-উত্তোলন দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা তসরুপ এবং গ্রাহকের মাসিক কিস্তির জমা রাখা ৮৩ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সরাসরি আত্মসাৎ।

পুরোনো কেলেঙ্কারির নিষ্পত্তি না হতেই চলতি ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রাহকের আমানত আত্মসাতের অভিযোগ জমা পড়েছে। ভুক্তভোগী পারভীন আক্তারের ৫ হাজার ১৫৬ টাকা, পারভীন বেগমের ৩৮ হাজার ৪০৯ টাকা এবং আবুল খায়েরের ৩২ হাজার ৫১৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সোহেল আহমেদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে রাখা চেকে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে তা প্রমাণিত হলেও অতিরিক্ত ঋণের বোঝা ও সুদের দায় এখনো তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।

রহিমা বেগম নামের অপর এক নারী জানান, তিনি ও তাঁর মৃত স্বামী পৃথক হিসাবে মোট ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু তাঁদের দস্তখত জালিয়াতি করে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ঋণ তুলে আত্মসাৎ করা হয়। ২০২৪ সালের জুনে স্বামী মারা গেলেও সেই ভুয়া ঋণের দায় এখনো শোধ করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। প্রবাসী শফিউল আজম ও আবুল খায়েরও এসডিপিএসের বকেয়া ও আমানতের টাকা ফেরত না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন জানান, সাবেক ব্যবস্থাপকের আমলে এসডিপিএসের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজন গ্রাহক অতি সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ব্যাংকটির কুমিল্লা অঞ্চলের আবাসিক ব্যবস্থাপক (আরএমও) জামাল উদ্দিন জানান, নতুন অভিযোগের লিখিত কাগজ এখনো তাঁর হাতে পৌঁছায়নি, তবে পেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তীতে বক্তব্য প্রদান করবেন।

অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সরওয়ার আলম তালুকদার দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে নতুন করে ওঠা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর পূর্বের প্রদেয় শাস্তির বিষয়ে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেছি।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদনে মিলল যেসব তথ্য

চৌদ্দগ্রামে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ, ম্যানেজার সরওয়ার আলমের শাস্তি ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত

আপডেট সময় ১১:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম শাখায় গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চেক নগদায়ন এবং অনিয়ম করে ঋণের অর্থ উত্তোলনসহ মোট ১৯টি গুরুতর অভিযোগের মধ্যে ১৭টিই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকার আর্থিক তসরুপের তথ্য মিললেও অভিযুক্ত ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কেবল দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের মতো নামমাত্র লঘুদণ্ড। শাস্তি শিথিল হলেও ভুক্তভোগী শত শত সাধারণ গ্রাহক এখনো তাঁদের আত্মসাৎ হওয়া আমানতের টাকা ফেরত পাননি। উল্টো পুরোনো অপরাধের রেশ কাটতে না কাটতেই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে আমানত আত্মসাতের একগুচ্ছ অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযুক্ত সরওয়ার আলম তালুকদারের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তার অপকর্মের প্রমাণিত চিত্র, নমনীয় শাস্তির মাত্রা এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকিং খাতে ও স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রমাণিত অপরাধ ও আত্মসাতের খতিয়ান:

ব্যাংক সূত্র ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, সরওয়ার আলম তালুকদার ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৯ জুন পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় গ্রাহকের আমানত লুটপাট, জামানতের চেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি, ভুয়া ঋণের নামে টাকা উত্তোলন এবং স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ম ভেঙে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে জানা যায়, ২০২১ সালের জুনে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সরওয়ার আলম তালুকদার এবং তাঁর দুই সহযোগী কর্মকর্তা আবদুল জলিল ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাতের সত্যতা প্রমাণিত হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করে বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি করে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।

প্রমাণিত ১৭টি অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:

  • কর্মকর্তার চেক জালিয়াতি: অধীনস্থ এক কর্মকর্তার চেক থেকে সই জাল করে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ টাকা উত্তোলন।
  • গ্রাহকের আমানত ও এসডিপিএস লুট: আমানতকারীদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করে ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা, এসডিপিএস রসিদ বদলে ২৫ হাজার টাকা এবং এসডিপিএসের স্থিতি পরিশোধের ২ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ টাকা আত্মসাৎ।
  • ভুয়া ঋণ ও স্বজনপ্রীতি: ভুয়া ঋণের নামে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নিজের স্ত্রী রুনা লায়লার নামে নীতিমালা ভেঙে ৬৩ হাজার ৬৩০ টাকা অতিরিক্ত ঋণ প্রদান এবং প্রধান কার্যালয় থেকে নামঞ্জুর করা উদ্যোক্তাকে নিয়ম ভেঙে ১ লাখ টাকা বিতরণ।
  • নগদ জমা জালিয়াতি: জমা ছাড়াই জমা-উত্তোলন দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা তসরুপ এবং গ্রাহকের মাসিক কিস্তির জমা রাখা ৮৩ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সরাসরি আত্মসাৎ।

পুরোনো কেলেঙ্কারির নিষ্পত্তি না হতেই চলতি ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রাহকের আমানত আত্মসাতের অভিযোগ জমা পড়েছে। ভুক্তভোগী পারভীন আক্তারের ৫ হাজার ১৫৬ টাকা, পারভীন বেগমের ৩৮ হাজার ৪০৯ টাকা এবং আবুল খায়েরের ৩২ হাজার ৫১৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সোহেল আহমেদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে রাখা চেকে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে তা প্রমাণিত হলেও অতিরিক্ত ঋণের বোঝা ও সুদের দায় এখনো তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।

রহিমা বেগম নামের অপর এক নারী জানান, তিনি ও তাঁর মৃত স্বামী পৃথক হিসাবে মোট ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু তাঁদের দস্তখত জালিয়াতি করে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ঋণ তুলে আত্মসাৎ করা হয়। ২০২৪ সালের জুনে স্বামী মারা গেলেও সেই ভুয়া ঋণের দায় এখনো শোধ করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। প্রবাসী শফিউল আজম ও আবুল খায়েরও এসডিপিএসের বকেয়া ও আমানতের টাকা ফেরত না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন জানান, সাবেক ব্যবস্থাপকের আমলে এসডিপিএসের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজন গ্রাহক অতি সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ব্যাংকটির কুমিল্লা অঞ্চলের আবাসিক ব্যবস্থাপক (আরএমও) জামাল উদ্দিন জানান, নতুন অভিযোগের লিখিত কাগজ এখনো তাঁর হাতে পৌঁছায়নি, তবে পেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তীতে বক্তব্য প্রদান করবেন।

অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সরওয়ার আলম তালুকদার দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে নতুন করে ওঠা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর পূর্বের প্রদেয় শাস্তির বিষয়ে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেছি।”