ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ২ মেরুল বাড্ডায় রাজউকের ১১ একর জমি বেদখল, ২১ বছরেও উদ্ধারের উদ্যোগ নেই তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি মন্টিনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বরগুনায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের দুই মাসেই ধস একাধিক আবাসিক হোটেল ঘিরে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে নারী পাচার-মাদক কারবারের অভিযোগ ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলে জিএস মাহবুবুর রহমানের সাংগঠনিক ভূমিকা সমবায়ের অতিরিক্ত নিবন্ধক নবীরুলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রামে জাল রেকর্ডে ২৪ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ

জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও তা ব্যবহার করে চট্টগ্রামে প্রায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৮ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন—চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক, ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। এ সময় জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করে সেগুলোকে আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে। জমিটি চট্টগ্রামের গোঁসাইলডাঙা মৌজায় অবস্থিত এবং লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের অংশ। জমির পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৬ শতক।

দুদকের হিসাবে, ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী বাড়ি বাদে ওই জমির মূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা। এর সঙ্গে জমির ভাড়া বাবদ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে জমির মূল্য ও ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করেই অভিযুক্তরা জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন। জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং জমি ভোগদখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। কমিশনের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চট্টগ্রামে জাল রেকর্ডে ২৪ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:২৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও তা ব্যবহার করে চট্টগ্রামে প্রায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৮ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন—চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক, ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। এ সময় জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করে সেগুলোকে আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে। জমিটি চট্টগ্রামের গোঁসাইলডাঙা মৌজায় অবস্থিত এবং লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের অংশ। জমির পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৬ শতক।

দুদকের হিসাবে, ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী বাড়ি বাদে ওই জমির মূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা। এর সঙ্গে জমির ভাড়া বাবদ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে জমির মূল্য ও ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করেই অভিযুক্তরা জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন। জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং জমি ভোগদখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। কমিশনের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।