ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারীকণ্ঠে প্রেমের অভিনয়, সেনা সদস্য সেজে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে গ্রেপ্তার টিটু ডিবি সেজে ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে ‘ফিল্মি’ স্টাইলে মারধর! পিকনিক করে ফেরার পথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ৭ শিক্ষার্থী জুলাইয়ের দুই শহীদ পরিবারকে গাভী দিলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী শ্রীপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জেলা পরিষদ প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে: জ্বালানি মন্ত্রী আহসানগঞ্জে তিন লাইনবিশিষ্ট আধুনিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা গ্রামীণ জীবিকা ও জলবায়ু সহনশীলতায় ১১২ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চালু গণপূর্তে আবু নাসেরের দাপট, টেন্ডার ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস-রাফিউলের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার রফাদফার অভিযোগ

পিকনিক করে ফেরার পথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ৭ শিক্ষার্থী

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্কুল ও কলেজের ৭ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে থানার পাশে শাহীদ আলী মডেল স্কুলের মাঠ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাতজনই স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।

গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীরা হলো—হবিবপুর গ্রামের অনিক দাস (১৮), ডুমরা গ্রামের বর্ষণ তালুকদার (১৮), সৌমিত্র দাস (১৮), দীপ্ত দাস (১৮), অভি সরকার (১৬), দেব দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৬)। আদালত রাতেই সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ক্লাবের ফুটবল খেলা উপলক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী শুক্রবার রাতে শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে খাবারের আয়োজন করেছিল। খাবার খাওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার সময় শাহীদ আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এলাকায় তারা মনের আনন্দে এই স্লোগান দেয়।

স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে তাদের সুনামগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শাল্লা জোনের জিআরও এএসআই মো. আবুল কাশেম।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই কোনো ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। সবাই স্কুল-কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তারা বন্ধুবান্ধব মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে এমনিতেই এই স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠিয়েছে। এখন সবার স্বজন দুশ্চিন্তায় আছেন।

বর্ষণ তালুকদারের বাবা অনাদি তালুকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না, রাজনীতি বুঝে না। কিন্তু পুলিশ স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের কারাগার থেকে মুক্ত করার বিষয়ে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছি।’

স্কুলছাত্র অভি সরকারের বাবা বাদল সরকার বলেন, ‘আমার ছেলে হাইস্কুলে পড়ে, সে রাজনীতির কী বুঝে। তারা নাকি কয়েকজন মিলে ওই স্লোগান দিয়েছে—এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠিয়েছে। ছেলেকে নিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।’

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা শুক্রবার রাতে রাজনীতি নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান দিয়েছে ও মিছিল করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

স্কুলছাত্রদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বয়স যদি কম হয়ে থাকে, আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীকণ্ঠে প্রেমের অভিনয়, সেনা সদস্য সেজে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে গ্রেপ্তার টিটু

পিকনিক করে ফেরার পথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ৭ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৫:০০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্কুল ও কলেজের ৭ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে থানার পাশে শাহীদ আলী মডেল স্কুলের মাঠ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাতজনই স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।

গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীরা হলো—হবিবপুর গ্রামের অনিক দাস (১৮), ডুমরা গ্রামের বর্ষণ তালুকদার (১৮), সৌমিত্র দাস (১৮), দীপ্ত দাস (১৮), অভি সরকার (১৬), দেব দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৬)। আদালত রাতেই সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ক্লাবের ফুটবল খেলা উপলক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী শুক্রবার রাতে শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে খাবারের আয়োজন করেছিল। খাবার খাওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার সময় শাহীদ আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এলাকায় তারা মনের আনন্দে এই স্লোগান দেয়।

স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে তাদের সুনামগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শাল্লা জোনের জিআরও এএসআই মো. আবুল কাশেম।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই কোনো ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। সবাই স্কুল-কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তারা বন্ধুবান্ধব মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে এমনিতেই এই স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠিয়েছে। এখন সবার স্বজন দুশ্চিন্তায় আছেন।

বর্ষণ তালুকদারের বাবা অনাদি তালুকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না, রাজনীতি বুঝে না। কিন্তু পুলিশ স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের কারাগার থেকে মুক্ত করার বিষয়ে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছি।’

স্কুলছাত্র অভি সরকারের বাবা বাদল সরকার বলেন, ‘আমার ছেলে হাইস্কুলে পড়ে, সে রাজনীতির কী বুঝে। তারা নাকি কয়েকজন মিলে ওই স্লোগান দিয়েছে—এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠিয়েছে। ছেলেকে নিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।’

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা শুক্রবার রাতে রাজনীতি নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান দিয়েছে ও মিছিল করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

স্কুলছাত্রদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বয়স যদি কম হয়ে থাকে, আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।