ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ফ্যাসিস্ট আমলে সরকারপ্রধানের সফরে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হতো: রিজভী শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে শতাধিক স্বর্ণবার জব্দ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থীও : মেলোনি আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো মাঠে থাকব: হারুন অর রশিদ ‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’ স্লোগানে জামায়াতের বিক্ষোভ বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের দল : আবদুস সালাম নওগাঁর রানীনগর সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ‘হাঁসুয়া বাহিনীর’ সদস্য গ্রেপ্তার বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থীও : মেলোনি

শিগগিরই ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করা হবে; পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করতেও উদ্যোগ নেবে রোম। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার মিলান শহরে এক জনসভায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণায় তিনি বলেছেন, “স্কুলগুলো সর্বোচ্চ কত সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে, সে-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে। এ ছাড়া যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যবস্থায় মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেই প্রস্তাবে।”

স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে মেলোনি বলেন, “ক্লাসে যদি মাত্র একজন শিশু ইতালীয় ভাষা না বোঝে, সে ক্ষেত্রে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় সে সম্ভবত দ্রুত ভাষাটি শিখে নিতে পারবে এবং অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে পারবে; কিন্তু ইতালীয় না-বোঝা শিশুর সংখ্যা যদি অনেক বেড়ে যায়—এমনকি তারা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পড়ে—তখন ভাষা শেখানো কঠিন এবং তাদের আর ইতালীয়দের সঙ্গে একীভূত করা যায় না।”

বোরকা প্রসঙ্গে মেলোনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মুখ খোলা রেখে স্কুলে আসতে হবে। ইতালিতে কখনও এমন কোনো সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয় না, যা একজন কিশোরী বা তরুণীকে মুখ ঢেকে চলতে উৎসাহিত করে।”

ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হার একেবারে কম নয়, শতকরা হিসেবে ১১ দশমিক ৬ ভাগ। অর্থাৎ, ইতালির স্কুলগুলোতে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জনই বিদেশি শিক্ষার্থী।

ভবিষ্যতে স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তির হার কত রাখা হবে—সে-সম্পর্কিত কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত অবশ্য দেননি মেলোনি।

বস্তুত, ইউরোপের যেসব দেশে বৈধ-অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি—সেসবের মধ্যে শীর্ষে আছে ইতালি। এই অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মুসলিম। মেলোনির রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালি ও তার অধিকাংশ সমর্থক মুসলিম অভিবাসীদের ধর্মীয় প্রথা, প্রতীক ও ধর্মাচরণকে ইতালীয় সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন।

সূত্র: রয়টার্স

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থীও : মেলোনি

আপডেট সময় ০৮:২৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিগগিরই ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করা হবে; পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করতেও উদ্যোগ নেবে রোম। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার মিলান শহরে এক জনসভায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণায় তিনি বলেছেন, “স্কুলগুলো সর্বোচ্চ কত সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে, সে-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে। এ ছাড়া যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যবস্থায় মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেই প্রস্তাবে।”

স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে মেলোনি বলেন, “ক্লাসে যদি মাত্র একজন শিশু ইতালীয় ভাষা না বোঝে, সে ক্ষেত্রে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় সে সম্ভবত দ্রুত ভাষাটি শিখে নিতে পারবে এবং অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে পারবে; কিন্তু ইতালীয় না-বোঝা শিশুর সংখ্যা যদি অনেক বেড়ে যায়—এমনকি তারা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পড়ে—তখন ভাষা শেখানো কঠিন এবং তাদের আর ইতালীয়দের সঙ্গে একীভূত করা যায় না।”

বোরকা প্রসঙ্গে মেলোনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মুখ খোলা রেখে স্কুলে আসতে হবে। ইতালিতে কখনও এমন কোনো সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয় না, যা একজন কিশোরী বা তরুণীকে মুখ ঢেকে চলতে উৎসাহিত করে।”

ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হার একেবারে কম নয়, শতকরা হিসেবে ১১ দশমিক ৬ ভাগ। অর্থাৎ, ইতালির স্কুলগুলোতে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জনই বিদেশি শিক্ষার্থী।

ভবিষ্যতে স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তির হার কত রাখা হবে—সে-সম্পর্কিত কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত অবশ্য দেননি মেলোনি।

বস্তুত, ইউরোপের যেসব দেশে বৈধ-অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি—সেসবের মধ্যে শীর্ষে আছে ইতালি। এই অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মুসলিম। মেলোনির রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালি ও তার অধিকাংশ সমর্থক মুসলিম অভিবাসীদের ধর্মীয় প্রথা, প্রতীক ও ধর্মাচরণকে ইতালীয় সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন।

সূত্র: রয়টার্স