ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারে কারসাজির অভিযোগ, নেপথ্যে শওকত আলীর বেনামি শেয়ার সাম্রাজ্য ব্রাহ্মণপাড়ায় অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭ পীরগঞ্জে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর নিয়ে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন বেগমগঞ্জ পাইলট স্কুলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের অন্যতম ইভেন্ট মার্শাল আর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিবগঞ্জে বাড়ি বাড়ি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ফরিদপুরে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ইডেন মহিলা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের পরিচ্ছন্নতা অভিযান আত্রাইয়ে প্রথম ধাপে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ১ হাজার ৭৮৫ জন

আত্রাইয়ে প্রতিবন্ধী তরুণ বকুলের ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন

নওগাঁর আত্রাইয়ে বকুল শাখিদার (১৮) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণকে প্রায় ১২ বছর ধরে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বকুলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারায় বাধ্য হয়েই তাকে এভাবে রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার মা। বকুল উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বামনি গ্রামের দিনমজুর আতিকুল শাখিদারের ছেলে।

তার মা ববিতা বিবি জানান, জন্মের সময় জটিলতার কারণে নৌকায় করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই বকুলের জন্ম হয়। পরে তার চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে রাজশাহীর এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, প্রসবের সময় মাথায় অতিরিক্ত চাপ পড়ায় এমন সমস্যা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা করালে সে সুস্থ হতে পারে।

পরিবারটি ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন বছর চিকিৎসা করালেও অর্থের অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে বকুলের আচরণে সমস্যা দেখা দেয়। বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় একপর্যায়ে তাকে বাড়ির পাশে আমগাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু হয়।

ববিতা বিবি আরও বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টি আর শীত সবই আমার সন্তানের মাথার ওপর দিয়ে যায়। ঘরের ভেতর থেকে ছেলের এমন জীবন দেখতে হয়, কিন্তু কিছুই করতে পারি না। রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বকুলকে ঘুম পাড়ানো হয়। সকালে ঘুম ভাঙার আগেই তার পায়ে শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়।’

ছেড়ে দিলে সে দৌড়ে চলে যায়। বকুলের পরিবারে আড়াই শতক জমি ছাড়া তেমন কোনো সম্পদ নেই। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান। তিন সন্তানের সংসারে নিত্যদিনের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে বকুলের চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।

মায়ের দাবি, চিকিৎসা করানো গেলে বকুল স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। ছেলেকে শিকলমুক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আবেদন পেলে খোঁজখবর নিয়ে বকুলের চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা করা হবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আত্রাইয়ে প্রতিবন্ধী তরুণ বকুলের ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন

আপডেট সময় ০২:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে বকুল শাখিদার (১৮) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণকে প্রায় ১২ বছর ধরে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বকুলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারায় বাধ্য হয়েই তাকে এভাবে রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার মা। বকুল উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বামনি গ্রামের দিনমজুর আতিকুল শাখিদারের ছেলে।

তার মা ববিতা বিবি জানান, জন্মের সময় জটিলতার কারণে নৌকায় করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই বকুলের জন্ম হয়। পরে তার চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে রাজশাহীর এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, প্রসবের সময় মাথায় অতিরিক্ত চাপ পড়ায় এমন সমস্যা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা করালে সে সুস্থ হতে পারে।

পরিবারটি ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন বছর চিকিৎসা করালেও অর্থের অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে বকুলের আচরণে সমস্যা দেখা দেয়। বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় একপর্যায়ে তাকে বাড়ির পাশে আমগাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু হয়।

ববিতা বিবি আরও বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টি আর শীত সবই আমার সন্তানের মাথার ওপর দিয়ে যায়। ঘরের ভেতর থেকে ছেলের এমন জীবন দেখতে হয়, কিন্তু কিছুই করতে পারি না। রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বকুলকে ঘুম পাড়ানো হয়। সকালে ঘুম ভাঙার আগেই তার পায়ে শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়।’

ছেড়ে দিলে সে দৌড়ে চলে যায়। বকুলের পরিবারে আড়াই শতক জমি ছাড়া তেমন কোনো সম্পদ নেই। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান। তিন সন্তানের সংসারে নিত্যদিনের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে বকুলের চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।

মায়ের দাবি, চিকিৎসা করানো গেলে বকুল স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। ছেলেকে শিকলমুক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আবেদন পেলে খোঁজখবর নিয়ে বকুলের চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা করা হবে।’