ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নূর জাহান মারা গেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নূর জাহান বাংলা বিভাগের ৬১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ মৌছাগাছা এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নূর জাহান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। প্রথমদিকে চিকিৎসা চললেও পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।
নূর জাহানের আকস্মিক মৃত্যুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিন সুলতানা বলেন, “নূর জাহান আপুর এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। ডেঙ্গু কাড়ল একটি প্রাণ। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।”
নূর জাহানের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা। তিনি বলেন, “নূর জাহান অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও সৃজনশীল একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
বিভাগীয় প্রধান আরও বলেন, নূর জাহানের মৃত্যুতে বিভাগ একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছে। তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানান।
নূর জাহানের স্বজন ও সহপাঠীরা জানান, তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে তাঁর আগ্রহ ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নূর জাহানের মরদেহ নিজ এলাকায় নেওয়ার পর পারিবারিকভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মৃত্যুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। তাঁরা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আব্দুর রহমান সাঈফ, কুমিল্লা 


















