ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মির্জাপুরে বেগম রোকেয়া দিবসে ৫ অদম্য নারীকে সম্মাননা সিলেটে আইফোনের জন্য শ্বাসরোধে যুবককে হত্যা ফিরেছেন কামিন্স, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডে আরও যারা ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দিয়ে তদন্তের মুখে পড়ছেন ফিফা সভাপতি ‎ নির্বাচিত হলে হরিপুর উপজেলা থেকেই উন্নয়ন শুরু – মাওলানা আব্দুল হাকিম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ২ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী মোল্লা ফারুক এহসান খুনি হাসিনা শতশত ছাত্র জনতা কে হত্যা করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে – শিবির সভাপতি জাহিদুল জনগণ এখন ইসলামী নেতৃত্ব চায় : ফয়জুল করিম জামাল ভূঁইয়ার কাছ থেকে আইফোন উপহার নিলেন বরিশালের সানি বেপারী

সাকরাইনে ফানুস ওড়ালেই কঠোর ব্যবস্থা

পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ (১৪ জানুয়ারি)। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজনে পালিত হবে সাকরাইন উৎসব। তবে সাকরাইন উৎসবে কোনোভাবেই যেন পুরান ঢাকায় ফানুস না ওড়ে সেই জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ফোটানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকা রাজধানীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও অগ্নি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। বিভিন্ন সময় পুরান ঢাকায় লাগা ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সারা দেশ। সাকরাইনকে কেন্দ্র করে ফানুস ওড়ালে বা আতশবাজি ফোটালে পুরান ঢাকায় অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে ফানুস না ওড়ানো ও আতশবাজি না ফোটানোর নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।

জানা গেছে, পুরান ঢাকার প্রতিটি মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছে যেন সাকরাইন উপলক্ষে ফানুস না ওড়ানো হয়, সেই সঙ্গে আতশবাজি না ফোটানোর অনুরোধও করা হয়েছে। এছাড়া পুরান ঢাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি থানায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাকরাইন উপলক্ষে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ফোটানো বন্ধ করতে। তারপরেও যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন বলেন, সাকরাইন পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকায় বর্ণিল উৎসবের আয়োজন হবে এটি স্বাভাবিক। তবে সাকরাইনকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় যেন কোনোভাবে ফানুস উড়ানো অথবা আতশবাজি ফুটানো না হয় সেই বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কয়েকদিন ধরে পুরান ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনেক ফানুস ও আতশবাজি জব্দ করেছি। মসজিদগুলো থেকে মাইকিংও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা দাবি করা হলেও সাকরাইন উৎসব উপলক্ষে পুরান ঢাকায় আতশবাজি ও ফানুস বিক্রি বন্ধ হয়নি। গত ৩-৪ দিন ধরে বিভিন্নভাবে এসব বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বেশি দামে পুরান ঢাকায় ফানুস ও আতশবাজি বিক্রি হয়েছে।

এদিকে থার্টি ফাস্ট নাইটে উপলক্ষেও ফানুস ও আতশবাজিরা বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা ছিল ডিএমপির। কিন্তু ডিএমপির এসব কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে রাজধানীতে হাজার হাজার ফানুস ওড়েছিল ও আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল। ফানুস ওড়ানোর ঘটনায় গত থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীর চার জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘট। এছাড়া ওই রাতে ওড়ানো ফানুস গিয়ে পড়ে মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক তার ও রেললাইনে। ফলে ১ জানুয়ারি দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল। থার্টি ফাস্ট নাইটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও কার্যত পুলিশের কোনো ব্যবস্থাই দেখা যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাপুরে বেগম রোকেয়া দিবসে ৫ অদম্য নারীকে সম্মাননা

সাকরাইনে ফানুস ওড়ালেই কঠোর ব্যবস্থা

আপডেট সময় ০৪:৪০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৩

পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ (১৪ জানুয়ারি)। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজনে পালিত হবে সাকরাইন উৎসব। তবে সাকরাইন উৎসবে কোনোভাবেই যেন পুরান ঢাকায় ফানুস না ওড়ে সেই জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ফোটানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকা রাজধানীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও অগ্নি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। বিভিন্ন সময় পুরান ঢাকায় লাগা ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সারা দেশ। সাকরাইনকে কেন্দ্র করে ফানুস ওড়ালে বা আতশবাজি ফোটালে পুরান ঢাকায় অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে ফানুস না ওড়ানো ও আতশবাজি না ফোটানোর নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।

জানা গেছে, পুরান ঢাকার প্রতিটি মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছে যেন সাকরাইন উপলক্ষে ফানুস না ওড়ানো হয়, সেই সঙ্গে আতশবাজি না ফোটানোর অনুরোধও করা হয়েছে। এছাড়া পুরান ঢাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি থানায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাকরাইন উপলক্ষে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ফোটানো বন্ধ করতে। তারপরেও যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন বলেন, সাকরাইন পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকায় বর্ণিল উৎসবের আয়োজন হবে এটি স্বাভাবিক। তবে সাকরাইনকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় যেন কোনোভাবে ফানুস উড়ানো অথবা আতশবাজি ফুটানো না হয় সেই বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কয়েকদিন ধরে পুরান ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনেক ফানুস ও আতশবাজি জব্দ করেছি। মসজিদগুলো থেকে মাইকিংও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা দাবি করা হলেও সাকরাইন উৎসব উপলক্ষে পুরান ঢাকায় আতশবাজি ও ফানুস বিক্রি বন্ধ হয়নি। গত ৩-৪ দিন ধরে বিভিন্নভাবে এসব বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বেশি দামে পুরান ঢাকায় ফানুস ও আতশবাজি বিক্রি হয়েছে।

এদিকে থার্টি ফাস্ট নাইটে উপলক্ষেও ফানুস ও আতশবাজিরা বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা ছিল ডিএমপির। কিন্তু ডিএমপির এসব কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে রাজধানীতে হাজার হাজার ফানুস ওড়েছিল ও আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল। ফানুস ওড়ানোর ঘটনায় গত থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীর চার জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘট। এছাড়া ওই রাতে ওড়ানো ফানুস গিয়ে পড়ে মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক তার ও রেললাইনে। ফলে ১ জানুয়ারি দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল। থার্টি ফাস্ট নাইটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও কার্যত পুলিশের কোনো ব্যবস্থাই দেখা যায়নি।